পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তাহলে আইন অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করে দেশের বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং তাকে কারাগারে যেতে হবে। সোমবার (১৩ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া কী হবে—এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের আইন সবের উপরে থাকবে। তিনি নানাভাবে বলেছেন যে একজন আসামিকে যদি এখানে এসে আত্মসমর্পণ করতে হয়, তা আইন মোতাবেকই হবে এবং তাকে মামলার রায় অনুযায়ী দণ্ড ভোগ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো আসামি আত্মসমর্পণ না করে রাজনৈতিক উসকানি প্রচার করলে সেটাকে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে দেখা হবে এবং তার দলের পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের উস্কে তোলা হতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের পেছনে অন্য কোনো যৌক্তিক কারণ তিনি দেখতে পান না।
সরকার ইতোমধ্যে প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানান শামা ওবায়েদ। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনা ও বিনিময় চলছে এবং যেকোনো আসামি আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কেউ বিদেশে থাকলে বাংলাদেশের মিশনে আত্মসমর্পণ করুক কি দেশেই আসুক—প্রক্রিয়া একই এবং তাকে সাজা ভোগ করতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘উনি যদি কোনো দেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, সেখানে থানায় কী করা হবে-না হবে তা তাদের দেশের আইনের বিষয়। কোথায় আত্মসমর্পণ করবেন—এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; সরকার এখানে প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আর কোনো নতুন নিয়ম তৈরি করছে না।’’
আরেকটি প্রশ্নে তিনি বলেন, একজন আসামির রাজনৈতিক বক্তব্য সরকার গ্রহণ করবে না। বাংলাদেশের যে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সেটাই কার্যকর থাকবে এবং ইতিমধ্যেই যে রায় বা শাস্তি আছে তা মান্য হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভারত থেকে করা বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সরকার কি ভারতের কাছে আবেদন করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ভারতের সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক কথাবার্তা আছে এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো সেখানে উঠে আসে; তবে এ বিষয়টি নতুন করে কিছু বলা থাকবে না।





