মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা কোন জার্সি পরে খেলবে?

ইতিহাস কি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে—এমন প্রশ্ন উঠেছে আর্জেন্টিনার পোশাক নির্বাচনের ঘিরে। ১৯ জুলাই নিউজারসে ফাইনাল খেলতে গেলে তার আগে বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল জিততেই হবে লিওনেল স্কালোনির নেতৃত্বাধীন আলবিসেলেস্তের। সেমির একপ্রান্তেই ভক্তদের কৌতূহল: আর্জেন্টিনা কোন রঙের জার্সি পরবে?

জার্সি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামীকাল, যখন আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ), ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ফিফার প্রতিনিধিরা ম্যাচ সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য সমন্বয় সভা করবেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম কিট না পরে নীল বিকল্প কিট পরার অনুমতি ফিফার কাছে চেয়েছে। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তোন এদুল নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরে খেলার অনুমতি চেয়েছে,’ তবে এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।

এই অনিশ্চয়তার পেছনে ফিফার নিয়মও কাজ করছে। নকআউট পর্বের ড্র-এ যে দল ব্র্যাকেটের ওপরে থাকে তাকে ‘টিম এ’ বলা হয়; এই ম্যাচে সেটা ইংল্যান্ড। ফলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে টিম এ-র কাছে প্রথমে তাদের হোম কিট বজায় রাখার অধিকার থাকে। ফলে ইংল্যান্ড তাদের সাদা হোম জার্সি রাখলে আর্জেন্টিনাকে নীল কিট পরতেই হতে পারে। বিপরীতে, যদি ইংল্যান্ড তাদের বিকল্প লাল জার্সি বেছে নেন, তাহলে আর্জেন্টিনা স্বাভাবিকভাবেই আকাশি-সাদা ঘরের কিটেই নামবে। ফিফার একমাত্র লক্ষ্য থাকে—দুই দলের জার্সির মধ্যে পর্যাপ্ত দৃশ্যমান বৈপরীত্য থাকা, যাতে মাঠে গণ্ডগোল না হয় এবং টিভি সম্প্রচারে ক্লিয়ার কনট্রাস্ট থাকে।

ভক্তদের মধ্যে নীল জার্সি নিয়ে জোরও একটি মানসিকতা আছে। অতীতে আর্জেন্টিনা যখন পাঁচটি ফাইনাল খেলেছে, ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে তারা নীল কিট পরে হেরেছে—দুইবারই প্রতিপক্ষ জার্মানি। অন্যদিকে ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও সর্বশেষ ২০২২-তে আকাশি-সাদা কিটেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর্জেন্টিনা (প্রতিপক্ষ ছিল নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ফ্রান্স)। এই ইতিহাসের উত্থান-পতনকে সামনে রেখে অনেকে নীল কিটকে ‘কুফা’ বলছেন।

তবে বাস্তবতাও আছে: নীল কিট পরেও আর্জেন্টিনা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের ম্যাচে আর্জেন্টিনা নীল জার্সি পরে জয়ী হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে রাউন্ড অব ১৬-তেও আর্জেন্টিনা নীল কিটে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে—ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে শেষ হয়। এবারের টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা একবার নীল জার্সি পরেছে—জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচে; ইংল্যান্ড এই বিশ্বকাপে তাঁদের ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই সাদা জার্সিতে ছিল এবং কেবল পানামার বিরুদ্ধে লাল কিট ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে, আকাশি-সাদা কিট পরেও আর্জেন্টিনার হার আছে—উদাহরণ হিসেবে ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজয় উল্লেখযোগ্য। তবু একটি আশ্বাসজনক পরিসংখ্যান আছে: অতীতে আর্জেন্টিনা যে পাঁচবার সেমিফাইনাল খেলেছে, প্রত্যেকবারই তারা ফাইনালে উঠেছে; এবার এটা তাদের ষষ্ঠ সেমিফাইনাল।

গত এক মাসের উত্তেজনার পর বিশ্বকাপ এখন নিজ শেষ পর্বে। আগামী এক সপ্তাহে টুর্নামেন্টের ইতি টানবে—ফাইনালে কে শিরোপা ধরে রাখতে পারবে, সে উত্তরের অপেক্ষায় সব চোখ থাকবে। জার্সির রংই হোক বা মাঠের পারফরম্যান্স—ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দীপনা একই রকম। অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত তো আসবেই; তারপর জানতে পারব, নীল কি আকাশি-সাদা—কোন রঙেই ইতিহাস লেখা হবে আর্জেন্টিনার হাতে।