খুলনার হরিণটানায় এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ বাড়ির উঠান থেকে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডটি রমজান মাসের মাঝামাঝিতে ঘটেছিল; মঙ্গলবারের ঘটনা এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসে দম্পতির পারিবারিক কলহের জেরে।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রায় পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ হন একজন ইজিবাইক চালক। শনিবার দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হরিণটানা থানা পুলিশ ব্লু ওয়েল আবাসিক এলাকার এক বাড়ির উঠান খনন করে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই বাড়ির মালিক মুরাদ মোল্লা (৩০) ও তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন (২২)কে আটক করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, খুনি দম্পতি সম্পর্কে আসামিরা প্রথমে পুলিশে এসে ব্যক্তিগত কলহের কথা জানালে স্ত্রী পরবর্তীতে ঘটনার সব বর্ণনা দেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে মাঠে ছানি চালানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাল্গুনী জানায়, স্বামী মুরাদ মোল্লা ও তিনি মিলে ওই চালককে হত্যা করে বাড়ির উঠানে পুঁতে রেখেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, চালককে ভাড়া দেওয়ার কথা বলে রমজানের শুরুতে বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল; খাবারে হয়ত কি‑না অজ্ঞান করার কিছু মিশিয়ে তাকে নশক করে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং ওই রাতেই মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।
পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির ব্যবহার করা ইজিবাইকটি খুলনা সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত ছিল; হত্যাকাণ্ডের পর ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে ভাঙে বিক্রি করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র ও পুলিশের দিক থেকে নিহতের নাম গোলাম মোস্তফা ‘মারুফ’ হতে পারে বলেও বলা হচ্ছে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের এক পা ছিল না।
হরিণটানা থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের নম্বর প্লেটও পাওয়া গেছে; নম্বর অনুসন্ধান করে নিবন্ধনের তথ্যের সূত্র ধরে মালিক সম্পর্কে জানা গেছে। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, মারুফকে ফোন করে ডেকে আনা হয়েছিল এবং ইজিবাইকে বসানো অবস্থায় পেছন থেকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। কেএমপির সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছেন, ঘটনার সময় রমজান মাসের মাঝামাঝি—কাজকর্ম হয়নি বলেই ব্যাপারটি এতদিন ধরে তোড়জোড়ে না আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফাল্গুনী পূর্বে যৌনকর্মে জড়িত ছিলেন এবং মুরাদের সঙ্গে তার পরিচয় ও পরে বিয়ে হয়; বিয়ের পরও কিছু পরিসরে সেই সম্পর্ক বজায় ছিল বলে পুলিশ বুঝে। হত্যাকাণ্ড ও ইজিবাইক টুকরো করে বিক্রি করার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলটি মনোরম এবং অল্প জনবহুল একটি নতুন আবাসিক উদ্যোগ হওয়ায় এই হত্যার খবর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে; পুলিশ, PBI ও CID‑র সদস্যরা ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই পদক্ষেপ নেবে।





