বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গণভোট বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করব: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামের আমির ও বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

সমাবেশটি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও পুশব্যাক বন্ধ এবং জনদূর্ভোগ নিরসনের জন্য চার দফা দাবিতে আহ্বান করা হয়েছিল।

ডা. শফিকুর বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি সভায় জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারি না। আমরা জাতিকে কথা দিয়েছি—লড়াই চালিয়ে যাবো এবং গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব, ইনশাআল্লাহ। এ থেকে আমরা এক চুলও সরব না।’’ তিনি আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে এই অঙ্গীকার পুনরায় নিয়ে উপস্থিত জনতাকে অনুপ্রাণিত করেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, তারা বৈষম্য দূর করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই নতুন দেশ গড়ার অংশ হিসেবে সংস্কারের জন্যই গণভোট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘কেউ এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেছেন ভোট দুটো দেবেন—একটা তাদের দলকে, আরেকটা গণভোটে ‘হ্যাঁ’—প্রথম প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন, কিন্তু দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি।’’

তিস্তা প্রকল্প নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘তিস্তা বাঁচাও—জাগো’ আন্দোলনের কথা নির্বাচনের আগে শুনেছি, কিন্তু সাম্প্রতিক বাজেটে তিস্তার জন্য এক টাকারও বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি চাই না, বাস্তব পদক্ষেপ চাই। সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামী নির্বাচনে আপনারা ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমে ১১ দলকে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করবেন—তাই আমরা সেই বাধ্যতা বাস্তবায়ন করিয়ে নেব, ইনশাআল্লাহ।’’

সীমান্তে উত্তেজনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্তে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশের জন্য সীমান্তে হত্যা ও চাপ বৃদ্ধির অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার নীরব বসে থাকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেন এবং জনগণ ও বিজিবির সঙ্গে হাতে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা মানুষদের অভিবাদন জানান। তিনি সরকারের প্রতি আবেদন করেন, জনগণের অনুভূতি বুঝুন এবং বিদেশি শাসকদের খুশি করার জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।

শেষে ডা. শফিকুর পরিষ্কারভাবে বলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ অন্যান্য দাবির বাস্তব পদক্ষেপ ছাড়া তাদের আপোষ নেই। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।