গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই ২০২৫) বিকেলে কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকার দিকে যাওয়া ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের তিলছড়া ও রাতইল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে। মিছিলে তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
বিক্ষোভ চলাকালে রাতইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হকের একটি মোটরসাইকেলও মিছিলকারীরা জ্বালিয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশ উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলকারীরা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে; এ ছাড়া চারটি মাইক্রোবাস, একটি বাস ও দু’টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। বিক্ষোভটি করতে তারা জেলা শহরের বেদগ্রাম এলাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে রাতইল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, “আমরা গোপালগঞ্জ থেকে রাতইল যাচ্ছিলাম। সেখানে পৌঁছালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে ধাওয়া করে এবং পরে আমার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দিয়েছে।”
রাতইল ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মোঃ নান্নান খাকি বলেছেন, “আমি এমদাদুলকে নিয়ে তখন রাতইলে ছিলাম। ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে পৌঁছালে দেখি তারা সেখানে বিক্ষোভ করছে এবং এমদাদুলের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।”
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ বলেন, “কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ওই স্থানে মিছিল বের করার চেষ্টা করে। পুলিশ গেলে তারা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে; তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যারা জড়িত নয়, তাদের ছেড়ে দেয়া হবে এবং যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এই ঘটনার ফলে ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের ওই অংশে কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয়রা ক্ষতি-ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।





