বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিফ প্রসিকিউটর: জুলাইয়ে হাসপাতাল থেকে অনেক মরদেহ নদীতে ভাসানো হয়েছিল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার একটি হাসপাতালে থাকা অনেক নিহতের মরদেহ পাশের নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল — এই তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান সংলগ্ন জুলাই শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে পাওয়া গোটা প্রেক্ষিত যাচাই করা হচ্ছে; কোথা থেকে, কখন এবং কারা মরদেহগুলো নদীতে ছাড়ার সাথে জড়িত ছিল তা শনাক্তের কাজ আগামি সময়ে ত্বরান্বিত করা হবে। নদীতে ভাসানো হয়েছে বলে যে মরদেহগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

রায়েরবাজারের গণকবরে মোট ১১৪টি মরদেহ দাফন আছে এবং এখন পর্যন্ত আটজনকে জুলাই মাসের শহীদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউটরের দফতর উল্লেখ করেছে যে বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় নির্ণয়ের কাজ চলছে এবং সেটি দ্রুত ত্বরান্বিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন। বিচার বিভাগীয় তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গণকবর পরিদর্শন করা হচ্ছে; এ পর্যন্ত ৮৩৪ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে।

রায়েরবাজার ছাড়াও জুরাইন, মাতুয়াইল, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের গণকবরগুলো পরিদর্শন করা হবে। পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে মৃতদেহগুলোর পরিচয় নির্ধারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত-প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।