বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আইনের পথে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্য্য নির্ধারণ হওয়া উচিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক পক্ষের রাজনীতি জোরপূর্বক বন্ধ করতে চায় না; বরং আইনানুগ পদ্ধতিতে ফ্যাসিবাদী মনোভাবাপন্ন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্য্য নির্ধারণ হওয়া উচিত।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা চাই আইনের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সংগঠন (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্য্য নির্ধারিত হোক। প্রশাসনিক বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি বন্ধ করা আমরা সঠিক মনে করি না।’’

তিনি অভিযোগ করেন, গত সময়ে আওয়ামী লীগ যে নির্যাতন ও লুণ্ঠন করেছে তার দায় এড়ানো সম্ভব নয়। বড় ধরনের হত্যাযজ্ঞ ও অন্যায় যাই ঘটে যাওয়ার পরও তাদের মধ্যে অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার লক্ষণ দেখা যায় না; বরং তারা জুলাইয়ের বীরযোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে।

ঢাবি শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে স্মরণঘন হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীরা যে আত্মত্যাগ করেছে, সেটি অতুলনীয়। তাদের বিন্যাসিত সংগ্রামের ফলে এ দেশে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়েছে; সেই অর্জন রক্ষা করতে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।’’

তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, যদি সমাজে বিভাজন বাড়ে, তাহলে ফ্যাসিবাদের পুনরাবির্ভাব ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই তিনি সবাইকে ‘জুলাইয়ের চেতনা’ ধারণের আহ্বান জানান এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে সেই চেতনাকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সরকারের অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রস্তুতি চলছে। যারা বিদেশে সামরিক বা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সাহায্য নেয়ার কাজ চলছে। তিনি জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত কাজ করছে।

ভবিষ্যতে সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধন করার পরিকল্পনা আছে বলেও জানান তিনি। এ উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠন ও ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করা হয়েছে, যাতে সবাই একযোগে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোতে অংশগ্রহণ করতে পারে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

আরও বলেন, দেশের ছাত্র রাজনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হবে এবং ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতেই হবে। আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।