বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কিনা—এ সিদ্ধান্ত আদালত ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের দলীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী নেতৃত্বে একটি বিএনপি প্রতিনিধি দল ওই হিসাব জমা দেয়।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করলে রিজভী বলেন, ‘‘এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই কে নির্বাচনে অংশ নেবে বা নেবে না—এ বিষয়টি আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়ে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘অন্য রাজনৈতিক দল কি বলছে তা প্রধান বিষয় নয়। প্রচলিত আইন এবং যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, তার ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করবেন কারা অংশ নিতে পারবেন। আমরা বিষয়টি তাদের ওপরই ছেড়ে দিলাম।’’
এর আগে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়; তার যোগ্যতা-অযোগ্যতার শর্তই বিবেচ্য। আইনগত যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন আগামী অক্টোবরে স্থানীয় সরকারের কয়েকটি স্তরের নির্বাচন আয়োজন করতে চাওয়া নিয়ে রিজভী জানান, তফসিল সম্ভাব্যভাবে আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে। সূত্র বলছে শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজস্ব প্রার্থীদের সমর্থন দেবে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘‘দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হওয়ায় এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম। এখনো এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’’
দলের কাউন্সিলের সম্ভাব্যতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেই নির্দেশনা এসেছে। মহাসচিব ও দলের চেয়ারম্যানও কাউন্সিল হওয়ার কথাই বলেছেন। তবে নির্দিষ্ট তারিখ বা মাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই কাউন্সিল হবে বলে আমরা আশা করছি, সময় নির্ধারণ হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’’





