মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তানজিদ ও শান্তের ফিফটিতে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানে হেরে সিরিজ হার ঠেকাতে মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে বিজয় ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না স্বাগতিক বাংলাদেশে। সেই চাপ সামলে মিরাজদের কোনো ভুল করা লাগল না — নিউজিল্যান্ডকে ছয় উইকেটে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ।

নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রভাবে আক্রমণ চালায়; প্রথম ১০ ওভারেই ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলেন নাহিদ। অষ্টম ওভারে নাহিদ হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন (১৩) এবং পরের ওভারে উইল ইয়াংকে সৌম্য সরকারের ক্যাচে ফেরান। পরে সৌম্যই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম লাথামের উইকেটও তুলে নেন।

৫২ রানে চার উইকেট পড়ে বিপদে পড়ে কিউইরা, কিন্তু নিক কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস ৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে সময় দেন। ২৭তম ওভারের শেষ বলে কেলি লেগে ফিফটি করেন। নাহিদই ঐ জুটি ভাঙেন—আব্বাসকে ১৯ রানে ফেরান নাহিদ এবং উড়ন্ত ক্যাচে তাকে ফেরান লিটন। কেলি এরপর সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও থামেন; ১০২ বলের ইনিংসে তিনি ৮৩ করে চারে ১৪টি চারলেও যান। শারিফুলের বলে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচে লিপ্ত হন কেলি।

কয়েকটি উইকেট পড়ার পর নিউজিল্যান্ডের অংশীদারিত্ব ভেঙে পড়ে। রিশাদ হোসেন জশ ক্লার্কসনকে ফেরান, নাহিদ ডিন ফক্সক্রফটকে আউট করেন এবং শারিফুল ইসলাম ব্লেয়ার টিকনারকে আউট করেন—আফিফ হোসেনই তাকে ক্যাচ দিয়ে দেন। নাহিদ নিজের শেষ ওভারে জেইডেন লেনক্সকে ইয়র্কারে বোল্ড করে প্রত্যাবর্তন ঘটান। শেষদিকে টাসকিন আহমেদের বলে উইলিয়াম ও’রোর্কের ক্যাচ নেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৮.৪ ওভারে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস অন্ত হয়েছে, মোট ১৯৮ রান।

জবাবে লক্ষ্যমাত্রা মোকাবিলায় নেমে বাংলাদেশ দ্রুতই গতি ধরেন। শুরুতেই ওপেনার সাইফ হাসান প্রথম বলেই চার হাঁকান, কিন্তু প্রথম ওভারেই তিনি ফিরে যান—আউট হওয়ার আগে করেন ৮ রান। এরপর ক্রিজে আসা সৌম্য সরকার আগ্রাসী ব্যাটিং দেখালেও মাত্র ১১ বলে ৮ রান করে ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ফক্সক্রফটের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তের সঙ্গে একযোগে নামা তানজিদ হাসান তামিম ও শান্ত এক ঝলমলে জুটি গড়ে দলকে জয়পথে ফিরিয়ে দেন। দুজন মিলে ১২০ রানের বড় জুটি করেছেন, যা বাংলাদেশকে দৃঢ় ভিত্তি দিয়েছে। তানজিদ ৫৮ বলে ৭৬ রান করে যান—১০ চার ও ৪ ছয়ে সাজানো ইনিংসটি জেইডেন লেনক্সের বলে কটবিহাইন্ড হয়ে শেষ হয়। শান্ত অবশ্য আউট হননি—রিটায়ার্ড হার্ট হওয়ায় মাঠ ছাড়েন; তিনি ৭১ বল খেলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় ৫০ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ লক্ষ্যটি হাতে রেখেই জিতেছে; ১৯৯ রানের জবাবে ৮৭ বলে এবং ৬ উইকেট বাঁচিয়ে ম্যাচ সেভ করেছে সূচকরা। মিরপুরে এ জয়ে সিরিজ এখন ১-১।