মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত আলোচনা

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক ও আলোচনা চলেছে। সংসদ অধিবেশন মুলতবি রেখে এই मुद्दায় আলোচনা করার প্রস্তাব করেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে স্পিকার এই প্রস্তাব গ্রহণ না করে, বিকল্প বিধিতে আলোচনা চালানোর জন্য নির্দেশ দেন। সোমবারের অধিবেশনে বিরোধীদলের নেতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের মধ্যে এই বিষয়ে তর্কবিরোধ হয়। তারা বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অধিবেশন মুলতবি করে আলোচনা করতে না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণ তাঁদের প্রয়োজনের জন্য আমাদের এখানে পাঠিয়েছে; আমাদের কাজ হলো তাদের হতাশ না করা। যদি আমরা এই প্রয়োজন পূরণ করতে না পারি, তবে এই সংসদে থাকার আর কোনো অর্থ থাকে না। আমাদের চেয়ারসংখা দিয়ে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করছি—এটা আমাদের দায়িত্ব।’

জ্বালানি সংকট বিষয়ে সরকারের বিবৃতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার বলছে তেলের সংকট নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা। মানুষ খুবই অসন্তুষ্ট। আমি নিজেও এই পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি। সংকট থাকায় হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতেও ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, বরং পরিস্থিতি সহজে সমাধানের জন্য অবদান রাখতে চাই। অনুগ্রহ করে এই নোটিশটি অপসারণ করুন এবং আলোচনার জন্য সূচি ঠিক করুন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর জবাবে বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা যে প্রস্তাবটি আনেন, তা অবশ্যই আলোচনা দাবি করে। তবে, সংসদীয় ইতিহাসে সাধারণত প্রস্তাব মুলতবি করা ট্রেজারী বেঞ্চের কাজ বাধাগ্রস্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই সেশনে দুইটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা খুবই বিরল। যদি আরো একটি হয়, তাহলে সেটি ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের কোনো সংকট নাই। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, মূল্যবৃদ্ধি সীমিত রাখা হয়েছে। তবে, যখন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন অপচয় ও পাচার বন্ধে আমরা ধীরে ধীরে মূল্যবৃদ্ধি করেছি। তাই এই মুহূর্তে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তবে, ৬৮ অনুযায়ী যদি বিরোধী দলীয় নেতা নোটিশ দেন, সেক্ষেত্রে এক ঘণ্টার আলোচনা সম্ভব।’

বিরোধী দলের নেতা এটাই শুনে বলেন, ‘আপনি বলছেন, কোনো সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবে যা দেখা যাচ্ছে, দেশের বাইরে এবং সংসদের বাইরে এই সংকট। এমনকি হাইকোর্টের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ভেরচুয়াল কোর্টের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের সংসদে নয়, বাইরে এই সংকট। বাস্তবের চিত্র ভিন্ন, এবং সেটাই উদ্বেগজনক।’

দ্বিপক্ষের বক্তব্য শুনে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আলোচকরা আলোচনা চালিয়ে যেতে চান। তবে সংসদ মুলতবি না করাই সমীচিন। ইতিমধ্যে প্রায় আধাঘণ্টার আলোচনা হয়েছে। তাই আমরা ৬৮ অনুসারে সাধারণ আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিই, যা এক ঘণ্টার বেশি হতে পারে না।’

পরবর্তীতে, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ নেতার (প্রধানমন্ত্রী) উপস্থিতিতে এই আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার তাকে ৬৮ বিধিতে নতুন করে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং আলোচনা উৎসাহিত করতে আশ্বাস দেন।