যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মঙ্গলবার চুক্তি হবে—এমন দাবি ট্রাম্প তার সামাজিক মঞ্চ ট্রুথ সোশ্যালে করলেও, ইরান এখনো ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা।
ইরনা তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, এখনও পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো উচ্চ পর্যায়ের, মাঝারি পর্যায়ের বা আগের বৈঠকের ফলোআপ কোনো প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ পাঠানো হয়নি। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত যে সব খবর বলছে ইরানের প্রতিনিধিদল রওনা দিয়েছে বা পৌঁছেছে—সেগুলোকে তারা ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একই সঙ্গে ইরান মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তাদের পুরাতন নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে: চাপের মুখে আত্মসমর্পণ করা হবে না।
পটভূমি হিসেবে বলা হয়েছে, প্রথম দফার সংলাপ ১১ এপ্রিল ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তান দ্বিতীয় দফার সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করে; ওই আলোচনার জন্য ২২ এপ্রিল নির্ধারিত ছিল। তবে প্রথম পর্বে ব্যর্থতার পর ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী ও ইরানের কিছু বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিলে দ্বিতীয় দফার সম্ভাবনা অনেকাংশেই ক্ষীণ হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ট্রাম্পকে হরমুজ ও ইরানি বন্দরগুলো থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পরামর্শ দেন—কারণ তিনি বলেন, এই অবরোধ সংলাপের পথে অন্তরায়। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ওই পরামর্শ বিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য, গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গভীর অনাস্থা এবং আমেরিকার ‘অগঠনমূলক’ মনোভাবই সংলাপের বড় বাধা। তিনি বলেন, অর্থপূর্ণ কোনো সংলাপের জন্য প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান বাধ্যতামূলক; কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ইরান ঐতিহাসিকভাবে আস্থা সংকটে ভোগে এবং বিভ্রান্তিকর সংকেত এই সমস্যাকে তিক্ত করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি





