সোমবার, ১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টারে আটক প্রায় ৪০০, বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে

পশ্চিমবঙ্গে হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার প্রথম সাত দিনে রাজ্য প্রশাসন মোট প্রায় ৪০০ জন কথিত ‘বাংলাদেশি’ আটক করেছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে—এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে।

অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি আটক করা হয়েছে বসিরহাট পুলিশ জেলায়। সেখানে মোট ৩৩৫ জনকে আটক রাখা হয়েছে এবং তাদের তেঁতুলঘাটি, পাথরশাঁতি, চরঘাট ও সুভাষ নগরের ধরণা/ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে রাখা হয়েছে।

বসিরহাটের বাইরে মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়ও কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটক করার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া বারুইপুর, বারাসাত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাগুলিতেও আটক ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজ্য প্রশাসন এই কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করেছে। সূত্রেরা বলছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে আটকা পড়া ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, ডকুমেন্টেশন এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে সার্বক্ষণিক চোখ রাখা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্য এক তথ্যসূত্র জানান, ওই আটকদের মধ্যে কেরালায় কর্মরত চার জন শ্রমিকও রয়েছেন। তারা ২৬ মে হাকিমপুর সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছানোর পর ওই চারজনকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

ফোনে কথা বলার সময় চার যুবকের এক জন মতলেব হোসেন বলেন, ‘গতকাল আমাদের বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। বিএসএফ কর্মকর্তারাও আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন—কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছি, কোথায় কাজ করেছি এবং কোথায় থেকেছি, সে সব তথ্য নিয়েছে। আমরা সব তথ্য জানিয়েছি।’

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যভাবে বিস্তারিত বিবৃতি দেয়নি; তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে প্রশাসন আটক এবং প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।