বিশ্বকাপ শুরুর আগের ব্যস্ত প্রস্তুতির দিনে কয়েকটি শক্তি থাকা দল উদ্বোধনী টেস্টে শক্ত রেখে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ইংল্যান্ড, জার্মানি, পর্তুগাল এবং বেলজিয়াম নিজেদের প্রস্তুতি ম্যাচ জিতে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে; অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-পানামা ম্যাচ সমতায় শেষ হয়েছে।
ট্যাম্পায় নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন—ডেজেড স্পেন্সের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেড সংযুক্ত করা ছিল তা। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের জন্য ফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ম্যাচ রিয়াদারি দেখা; তাই প্রচণ্ড গরম (প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকায় কোচ বড় ক্ষেতে বেশ কিছু পরিবর্তন করে একাধিক খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ দিয়ে দলের সামর্থ্য টেস্ট করেছেন। দলের রোটেশন ও কেইনের ক্লিন ফিনিশিং দুটোই তাদের কাছে ভালো লক্ষণ।
চিকাগোতে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি ২-১ গোলে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছে। শুরুতেই জার্মানরা এগিয়ে যায়—জশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে কাই হাভার্টজ হেডে গোল করেন। দ্রুত সমতা ফিরলেও মার্কিনিরা কর্নার ক্লিয়ার হওয়ার পরে অ্যান্টনি রবিনসন দুর্দান্ত ভলিতে বালancement সমতা করেন। দ্বিতীয়ার্ধে লেরয় সানে ৫৭ মিনিটে শক্তিশালী শটে জার্মানিকে আবার এগিয়ে দেন। টানা জয়ের মাধ্যমে জার্মানির সংগ্রহ আগের মতো দৃঢ়তার ইঙ্গিত দিয়েছে।
পর্তুগাল চিলিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে—গোল করেছেন গনসালো গেদেস এবং ব্রুনো ফার্নান্দেস; শেষ দিকে চিলির লুকাস সেপেদা একটি গোল করে ফিরিয়েও ম্যাচ ঘুরিয়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল কারণ দুই দলেরই একজন করে খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন, ফলে শেষ দিকে দুই কোটিপতি দল ১০ জনে ছিল। মাঠে ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও, এবং দলের সামঞ্জস্য ঠিক রাখতে খেলোয়াড়দের পরষ্পরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছিল প্রধান লক্ষ্য।
ব্রাসেলসে বেলজিয়াম তিউনিসিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে—গোল সাজিয়েছেন লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড, চার্লস দে কেতেলারে, কেভিন দে ব্রুইনে, দোদি লুকেবাকিও ও নিকোলাস রাসকিন। চোট কাটিয়ে ফিরে আসা রোমেলু লুকাকু বদলি হয়ে ২৫ মিনিট খেলেছেন এবং একটি অ্যাসিস্টও করেছেন, যা বিশ্বকাপের আগে দলের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ম্যাচ শেষে কোচ বলেছেন যে ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে ভাল খেলা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে এবং বিশ্বকাপ সামনে রেখে এটি কার্যকর প্রস্তুতি।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ড বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে। বদলানো একাদশ খেললেও প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা; চে অ্যাডামস দুইটি গোল করেছেন, বাকি দুটি করেছেন লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড ও স্কট ম্যাকটমিনে। এমন জয়ের ফলে স্কটল্যান্ডের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যান্য ম্যাচে সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ১-১ গোলে ড্র করেছে, আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা বনাম পানামাও একই স্কোরলাইন (১-১) এ শেষ হয়েছে। এসব প্রস্তুতি ম্যাচে কোচদের মূল লক্ষ্য ছিল দলগত ভারসাম্য দেখা, খেলোয়াড়দের রিদম যাচাই ও টুর্নামেন্টের আগে কৌশলসূত্র পরীক্ষা করা।
বিশ্বকাপ আর দূরে নেই। তাই প্রস্তুতি ম্যাচের ফল গুরুত্বপূর্ণ হলেও তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল দলের ভারসাম্য, খেলোয়াড়দের ফিটনেস আর টুর্নিং-মিটিং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। এই দিকগুলোতে ইংল্যান্ড, জার্মানি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম নিজেদের শেষ পরীক্ষায় বেশ ইতিবাচক ছাপ রেখে দিয়েছে।





