সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মাসিক বেতন মাত্র ৬ হাজার, সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি-লকার থেকে উদ্ধার ২ কোটি

মাসিক বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকায় চাকরি করা এক সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি ও বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে ভিজিল্যান্স দফতর প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করেছে। ওড়িশ্যার কন্ধমলের বালিগুড়ার বৈকুণ্ঠনাথ বেহরা নামে ওই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ ওঠায় রাজ্য ভিজিল্যান্স তদন্ত শুরু করে।

ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জাজপুর এবং বালিগুড়া সহ একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে তদন্তকারীরা ব্যাংকের লকার থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করেন। বিভিন্ন ঠিকানায় থাকা নগদ আর মালামালের মধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকাও জব্দ করা হয়।

তল্লাশিতে শুধু নগদই নয়—ইঞ্জিনিয়ারের নামে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন, extensible জমি এবং বিলাসবহুল গাড়ি ও সোনার গয়নাও হদিশ মেলে। সূত্রে বলা হয়েছে, মোট পাঁচটি বহুতল ভবনের সন্ধান মিলেছে; এর মধ্যে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে ১০ হাজার ৫০০ বর্গফুটের উপর নির্মিত একটি চারতলা বিলাসবহুল বাড়িও রয়েছে। মোট ১৩টি জমিরও উদ্ধারের তথ্য রয়েছে—তাদের মধ্যে সাতটি জমি ভুবনেশ্বরে এবং বাকিগুলি জাজপুর ও বারিপদায়।

তল্লাশি অভিযান জাজপুরের চন্দ্রশেখরপুর, শৈলশ্রী বিহার, কানন বিহার ও ধর্মশালার পাশাপাশি বারিপদা, ভুবনেশ্বর এবং কন্ধমলে চালানো হয়। ভিজিল্যান্স কর্মকর্তারা সূত্রে জানিয়েছেন, নগদ, জমি-বাড়ি ছাড়াও সোনার গয়না ও মূল্যবান গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সম্পদের খোঁজ চলছে।

১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া বৈকুণ্ঠনাথ পরে অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে উন্নীত হন। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর থেকে ভিজিল্যান্স তার বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এবং ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকী সম্পত্তির সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা বলছেন, হঠাৎ পাওয়া এত বিপুল সম্পত্তির খবর তাদেরকেও স্তম্ভিত করেছে এবং আরও সংবিধানিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত থাকবে।