শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নয়াদিল্লিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই শেষ হলো বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি-বিএসএফ) ডিরেক্টর জেনারেল স্তরের চার দিনের বৈঠক বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বৈঠকে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা, গুলি চালনার ঘটনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল গত সোমবার নয়াদিল্লি পৌঁছে বিএসএফের ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠক করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকটি মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফ সদর দফতরে শুরু হয়।

তবে ঐতিহ্য ভাঙা এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই বাহিনীর ডিজিদের সম্মুখে মোটিভ্যাট আকারে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। সাধারণত বৈঠকের শেষে যৌথভাবে সাংবাদিকদের সামনে তথ্য দেয়ার প্রথা থাকলেও এবার স্বাক্ষরিত যৌথ নথি সত্ত্বেও দলীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলন করার বদলে একটি প্রেস বিবৃতিই প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এ স্তরের বৈঠকের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও নজরকাড়া: চলতি বছরের গোড়ায় বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন শেষে ঢাকায় বিএনপি নেতৃত্বের সরকার গঠন এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুনভাবে বিজেপি সরকার নেওয়ার পর এটি ছিল প্রথম বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক। বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গত রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বিএসএফের ‘পুশব্যাক’ (পিছিয়ে দেওয়া) ও সীমান্তে গুলি চালানোর মতো ঘটনা বৈঠকে তুলে ধরা হবে।

ঐতিহাসিকভাবে ডিজি-স্তরের এসব সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো; ১৯৯৩ থেকে তা বছরে দুইবার আয়োজিত হয়, যেখানে উভয়পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় মিলিত হন। এ এজেন্ডার সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য সভাটি আটশে ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল।

ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্ব বহন করে: ভারত-বাংলাদেশের মোট প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকের বেশি—প্রায় ২,২১৬ কিলোমিটার—পশ্চিমবঙ্গে পড়ে। সীমান্তরেখার প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও কাঁটাতারের বেড়াবিহীন; এর মধ্যে প্রায় ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা যেখানে বেড়া নির্মাণ সম্ভব না বলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই অপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা করেছেন এবং ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির কথা বলেছেন।

সূত্র: পিটিআই