ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো হামলাকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার স্মারকের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দেন আরাঘচি। তিনি বলেন, তেহরানের দৃষ্টিতে এই সমঝোতা দুই পক্ষকে নিয়ে গঠিত — একপক্ষে ইরান ও হিজবুল্লাহ, আর অন্যপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ফলে লেবাননে যুদ্ধের অবসানকে তিনি ‘‘পুরো যুদ্ধে অবসান’’এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে দেখেন এবং যুদ্ধের অবসানকে দখলদারিত্বের সমাপ্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
আরাঘচি আরও জানান, এখন থেকে লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো হামলা কিংবা সেখানে তাদের দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখা ইরানের কাছে সমঝোতার স্মারক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইসরায়েল বলছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের সৈন্যদের দিকে এগিয়ে আসা ‘‘সন্ত্রাসীদের’’ ওপর হামলা চালিয়েছে—এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আরাঘচির মন্তব্য আসে। হিজবুল্লাহও জানিয়েছে, প্রতিক্রিয়ায় তারা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট বলেছেন, লেবাননে দখল করা এলাকা ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তিনি দাবি করেছেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন ও সিরিয়ার নিরাপত্তা এলাকায় অবস্থান করবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের ‘‘অভিযান চালানোর স্বাধীনতা’’ বজায় থাকবে। নেতানিয়াহুর পাশাপাশি কট্টরপন্থি কিছু মন্ত্রী এবং অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার সমালোচনা করেছেন।
পরিপ্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা শুরু করার পর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায়। এরপর থেকে চলমান সংঘর্ষে লেবাননে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় লেবাননে যুদ্ধের অবসান পুরো যুদ্ধের অবসানের একটি অনিব্ছেদ্য অংশ।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি





