রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুজিবও একদলীয় শাসন করেছিলেন, টিকতে পারেননি: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার সার্বিকভাবে একদলীয় শাসনের লক্ষণ দিচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার। অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।

ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় ভিত্তিতে ভিসি নিয়োগ ও জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পার্টির নেতা ও ক্যাডার নিয়োগ করে একদলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় শাসন করেছিল কিন্তু সেটি টিকে ছিল না।

তিনি ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের স্মরণ করে তাদের পরিবারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং অনুরোধ করেন কেউই এই শহীদদের ছোট করে দেখুক না। তিনি বলেন, ‘‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হওয়া ঘটনাবলীর ফলেই ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিপূর্ণ হয়েছে; যদি সে ঘটনা না হত, তাহলে হয়তো ২০২৬ সালে নির্বাচনের প্রশ্নই উঠত না।’’ তিনি শহীদদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা রাজনৈতিক ভূমিকা পেয়েছি এবং শহীদদের মূল্য কম করে দেখার অনুরোধ করেন না।

তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি, সন্ত্রাস ও নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্য দিয়ে সত্তরোর্ধ্ব ভেঁজে গেলে ১১ দলীয় জোটকে মাত্র একটি আসন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদি ভোট গণনা সুষ্ঠু হত, জোট আরও বেশি আসন পেত।

বর্তমান সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিক বলেন, দেশ একসময় বহু বছর স্বৈরাচারের কবলে ছিল; ভোটের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিতভাবে মানুষের সিদ্ধান্ত আগে মানা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের সময় প্রথমে সরকারের অবস্থান ছিল না, পরে জনরোষের মুখে পরিবর্তিত হয়—এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলেন। তিনি এক কথায় বলেন, ‘‘যেসব রাজনীতিবিদ এ রকম কার্যকলাপ করেন, তাদের প্রতি জনগণের সম্মান কিভাবে থাকবে?’’

দলীয় নেতা হিসেবে ডা. শফিক সরকারকে সতর্ক করে বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৭ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে—এই রায়ের প্রতিফলন হিসেবে সব সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সরকারকে ফেরানোতায় অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সময় আছে ফিরে আসুন, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করুন; না হলে জনগণ আপনারা সামনে দাঁড়িয়ে যাবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্নীতির বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দায়িত্ব নিয়েও চাঁদাবাজি, ঘুষ ও নানা ধরনের অনিয়ম বৃদ্ধি পেয়েছে; জীবন ও ব্যবসা-জীবন নন-নিরাপদ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘কয়েকটি গোষ্ঠীর ভাগ্য হয়তো বদলাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে না।’’ নারায়ণগঞ্জের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলে তিনি শহরের গৌরব ফিরে আনার প্রয়োজনীয়তা জোর দেন এবং স্থানীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিও তোলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা চান সৎ ও আল্লাহ ভীত নেতৃত্ব থাকুক, যারা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেবে। সব অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অনির্বাচিত প্রশাসক সরিয়ে দ্রুত নির্বাচন দাবি করবে এবং আগামী নির্বাচনে দল here প্রার্থী দেবে। সম্মেলনে তিনি মহানগর নেতাকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে বলেন, আব্দুল জব্বারই তাদের প্রার্থী; নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডে প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসেবামুখী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।