রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভে উত্তেজনা: পুলিশের গুলিতে নিহত ২৪

পাকিস্তানের অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় থমকানো অবস্থায় পৌঁছেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে) গত ৫ জুন থেকে কর্মসূচি শুরু করে। তারা প্রধানত বিধানসভায় সংরক্ষিত আসন বাতিল এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর দাবি তোলে। ৯ জুন জেএএকে হরতাল ডেকায়; সেই হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এবং সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত প্রায় দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে ২৪ জন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ এবার পর্যন্ত ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরদিকে একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেলে প্রায় দুই সপ্তাহে ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কিছু পুলিশসদস্য নিহত হয়েছেন।

আজাদ কাশ্মির পুলিশের প্রধান লিয়াকত আলী মালিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহর। রাওয়ালকোট আজাদ কাশ্মিরের প্রশাসনিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কারফিউ জারি করেছে। শহরের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিকল করা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এসব কারণে এলাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবন ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে।

মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন বলেছেন, ‘‘আমি ওষুধ কিনতে গত কয়েকদিন ধরে বড় শহরে ঘুরে ফিরে যাচ্ছি, এখনও ওষুধ পাইনি। অনেক বড় দোকানও বন্ধ। খোলা দোকানগুলোর তোলা সরবরাহও শেষ হয়ে গেছে।’’ আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেন বলেন, ‘‘গত আটদিন ধরে আমরা খুব কষ্টে আছি। বাজারগুলো বন্ধ, শাক-সবজি ছাড়া আর কিছুই নেই।’’

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মির বিভক্তির পর পাকিস্তান অধিক্ষেত্রে আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান নামে দুটি অঞ্চল রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভায় মোট ৪৫টি আসন রয়েছে; এর মধ্যে ৪২টি আসন থেকে ১২টি আসন ভারতের কাশ্মির থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য নির্দিষ্টভাবে সংরক্ষিত।

কারফিউ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ফলে এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো অবাধে কাজ করতে পারলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: এএফপি, গালফ টুডে