দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদকে তলব করেছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে তার ব্যাখ্যা নেওয়ার জন্য তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) একটি নোটিশে মাহবুব মোর্শেদকে সোমবার (২৯ জুন) দুপুর তিনটায় সেগুনবাগিচায় কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। নোটিশে বলা হয়েছে এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
নোটিশে তাকে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপিসহ হাজির হতে বলা হয়েছে।
মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি এমডি ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নিজের একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংবাদসংস্থায় ভাড়া দিয়েছেন—এমন অনিয়মের অভিযোগ স্মরণ করা হয়েছে।
গত বছর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর চলতি বছরের ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার তাকে দুই বছরের মেয়াদে বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণের সময় ও পরবর্তীতে রাজনীতিক পরিবেশে পরিবর্তনের পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি বাসসে গিয়ে কর্মীদের বিক্ষোভের মুখোমুখি হন; সেই দিন অফিস থেকে বের হওয়ার পর আর তিনি সেখানে ফেরেননি।
ওই ঘটনার পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে মাহবুব মোর্শেদ লিখেন যে তাকে অপসারণ করতে ‘‘মব তৈরি করে’’ চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত দোষ-অপরাধ তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কর্মীদের ভোটেও কমিটির কাছে আরও কিছু অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ার খবর জানা যায়।
সবশেষে গত ১ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে।
দুদকের নোটিশে তুলে থাকা অভিযোগ ও তাকে জিজ্ঞাসাবদে কী উত্তর দেন—তার বক্তব্য পাওয়ায় ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হবে।





