মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সুপারকম্পিউটার বলছে: জাপান-ব্রাজিল ম্যাচে জয়ের ঝুঁকি বেশি ব্রাজিলের দিকে

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব মানেই তীব্র চাপ—একটা ভুল অনেকের স্বপ্ন ভাঙ্গিয়ে দিতে পারে। আজ নকআউটে জাপানের ‘ব্লু সামুরাই’ এবং পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মধ্যে হবে যখন-তখন বিস্ফোরক একটি মোকাবিলা। গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দ ধারণ করা সেলেসাওরা কি তাদের অভিজ্ঞতায় জাপানকে হারাতে পারবে, নাকি আত্মবিশ্বাসী জাপান বিশ্বকাপে নতুন চমক দেখাবে?

গ্রুপ সি-তে শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিরুদ্ধে হোঁচট খেলেও হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে ৩-০ করে হারানো তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ৪টি গোল ও মাতেউস কুনিয়া ৩টি গোল করে ব্রাজিল আক্রমণের তীক্ষ্ণতা দেখিয়েছেন।

তবে দলটির জন্য খবর খারাপও আছে—ইনজুরির কারণে রাফিনহার অনুপস্থিতি আঘাত দিয়েছে। তার শূন্যস্থান পূরণে ডানপ্রান্তে আজ দেখা যেতে পারে তরুণ রায়ানকে। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড ম্যাচে দীর্ঘ সময় পর বদলি হিসেবে নামা নেইমার এই ম্যাচে শুরু থেকেই খেলবেন কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে এবং সেটাই ফুটবলভক্তদের কৌতূহল বাড়াচ্ছে।

জাপান এখন যে কোনো বড় দলের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের শেষ ২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাত্র দুইটি পরাজয় এই দলের সামর্থ্যকেই প্রতিফলিত করে। তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এবং নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে তারা গ্রুপ সিক্স থেকে রানার-আপ হয়ে উঠেছে।

জাপানের মূল ভরসা দাইচি কামাদা ও আয়াসে উয়েদা; পরিসংখ্যান বলছে তারা ম্যাচের শুরুতেই গোল তুলে নিতে অভ্যস্ত—গত ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জাপান প্রথম গোল করেছে। তাই ব্রাজিলের প্রতিরক্ষা বিভাগকে ম্যাচ শুরু থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।

মাঠে এই দুই দলের সরাসরি ইতিহাস তেমন বেশী নয়। বিশ্বকাপে একবার মুখোমুখি হয়েছে—২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ৪-১ গোলে জিতেছিল। ২০২৫ সালের কিরিন কাপের ৩-২ জয়ে জাপান কিছু আত্মবিশ্বাস পেয়েছে, কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট চাপ আলাদা ও কঠিন।

পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের পক্ষে সুর গলা দিয়েছে। অপটার সুপারকম্পিউটারের ১০ হাজার সিমুলেশন চালিয়ে দেখা গেছে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৬৯.৭৫ শতাংশ। তবে মাঠে সবসময় পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়—কৌশল, মনোবল ও আবেগকেই মাঠে জয় নির্ধারণ করতে দেখা যায়।

এখন দেখার বিষয়—নেইমার ও ভিনিসিয়ুসের ঝলক নাকি জাপানের সুশৃঙ্খল রক্ষণ, কারা থাকবে জয়ের উদযাপনে যখন সেই শেষ সাইরেন বাজবে।