বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কালীগঞ্জে জমিজমা-বিরোধে একই দিনে দুই দফা হামলা, পল্লী চিকিৎসকসহ ৫ আহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই দিনে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এক পল্লী চিকিৎসক, তার বড় ভাই এবং একই পরিবারের তিন কন্যাসহ মোট পাঁচজন আহত হন। আহতদের সবাইকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। শনিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যায় ঘটনার পর পরদিন সোমবার (২৯ জুন) কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম হামলা ঘটে ২৮ জুন সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৪০ মিনিটে মনোহরপুর বাজারে রেজাউলের চায়ের দোকানের সামনে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ববিবাদকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ এসে মো. কবির হোসেনকে ঘিরে ধরে। সোহাগ রামদা দিয়ে কবিরের মাথায় কোপ কেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে কবির প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডান হাতে গুরুতর জখম হন। পরে কেরামত আলী ও উলাদ হোসেন লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

ওই সময় সাদ্দাম হোসেন একটি সাইকেল ভাঙচুর করেন এবং সামছুর রহমান একটি ওষুধ ভর্তি ব্যাগে আগুন ধরিয়ে প্রায় ৯ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। স্থানীয়রা আহত কবিরকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠায় এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রথম হামলার কয়েক মিনিট পরই—প্রায় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে—কুদ্দুস মাস্টারের পুকুরপাড় এলাকায় হামলার একটি দ্বিতীয় দফাও ঘটে। এই দফায় অভিযোগে নাম করা কিছু অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাকের ওপর লোহার রড দিয়ে আঘাত করে। এতে আব্দুর রাজ্জাকের মাথায় গম্ভীর চোট লাগে এবং তাকে সাত থেকে আটটিসেলাই দিতে হয়েছে। একই হামলায় তাঁর তিন কন্যা প্রিয়া, পপিয়া ও পূর্ণিমাও আহত হন।

পরিবারের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করলে তারা হাসপাতালে নেয়া হয়। অভিযোগকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক লিখিত অভিযোগে সামছুর রহমান, কেরামত আলী, উলাদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর, ছোট পুকুরিয়ার সোহাগ ও আলমসহ অজ্ঞাত আরো ৫–৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সব হামলার মূল কারণ জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।