বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৫৮,৮৭০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

গত ২৪-২৫ জুনের শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় ছড়িয়েছে। নাসার স্যাটেলাইট ডেটার একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রায় ৫৮,৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হেক জানিয়েছেন, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল‑১ স্যাটেলাইটের রাডার ছবি বিশ্লেষণ করে ২৫ জুন সংগৃহীত ছবিতে এসব ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গেছে। তারা বলেন, এটি একটি দ্রুত ও প্রাথমিক মূল্যায়ন; মাঠপর্যায়ে যাচাই এখনও সম্পন্ন হয়নি। ছবিতে পৃষ্ঠতলের আকস্মিক বদল ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য নিদর্শন নির্দেশ করছে, তবে সরেজমিন তথ্য আপাতত কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি।

নাসা জানিয়েছে, তাদের স্যাটেলাইট ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্য সরবরাহ করছে, যা উদ্ধারকর্মীদের পরিস্থিতি যাচাই ও উদ্ধারমূলক পরিকল্পনা করতে সহায়ক হচ্ছে। তবে মাঠে পৌঁছানো ও সরাসরি তল্লাশি তদন্তের কাজ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।

ভেনেজুয়েলার জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ মাঠপর্যায়ের তথ্য হিসেবে প্রকাশ করেছেন যে এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিশ্চিত করা গিয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,৭১৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫,০৩৪-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। প্রায় ৫০,০০০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে মনিটরিং চলমান আছে। ভূমিকম্পটি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে রাজধানীকার ভাষা এলাকার উত্তরেই অবস্থিত লা গুয়াইরা এলাকায়, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনেক প্রত্যন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি; ফলে স্থানীয়রা হাতে হাতুড়ি, লোহার রডসহ সহজ উপকরণ নিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ কিছু স্থানে পৌঁছেছে, কিন্তু জরুরি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত উদ্ধার করার সম্ভাবনা ক্রমান্বয়ে কমছে।

এই প্রতিবেদনটি নাসা, সিএনএন ও বিবিসি-সহ প্রকাশিত সূত্রের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে। জরুরি সাহায্য ও মাঠপর্যায়ের যাচাই ছাড়া স্যাটেলাইটভিত্তিক সংখ্যাগুলোকে প্রাথমিক হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।