শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কল রেকর্ড ও হোটেল বিলেই পরকীয়া প্রমাণ হতে পারে: সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, ফোন কলের রেকর্ড এবং হোটেলের বিলই পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এই পর্যবেক্ষণ জানান—যাতে বিবাহিত সম্পর্কের বিবাদে প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ মিলল।

২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আগে থেকেই বলেছিল যে পরকীয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়; কোনো বিবাহিত ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় পরকীয়ায় লিপ্ত হন, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে তা সত্ত্বেও পরকীয়ার অস্তিত্ব বিবাহবিচ্ছেদ, দায়-দাবি বা পারিবারিক আইন সংক্রান্ত মামলা-প্রক্রিয়ায় প্রমাণের প্রশ্ন তুলে দিতে পারে। আজকের পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছে যে কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিলের মতো নথি এসব প্রমাণের অংশ হতে পারে।

এটি একটি ২০২২ সালের মামলার প্রসঙ্গে বলা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজস্থানের জয়পুরের এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিলেন। তিনি দাবি করেন, স্বামীর কলরেকর্ড এবং হোটেলের বিল দেখলেই পরকীয়ার প্রমাণ মিলবে। প্রথমে তিনি পারিবারিক আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করেন এবং প্রমাণ হিসাবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছিলেন; কিন্তু মামলা চলাকালীন সেই ফুটেজ হোটেলের ডেটাবেস থেকে মুছে যায়।

পরবর্তীতে তিনি পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে স্বামীর কলরেকর্ড এবং হোটেলের বিল সংগ্রহের আবেদন করেন। পারিবারিক আদালত তখন অভিযুক্ত ব্যক্তির কল রেকর্ড ও হোটেল বিল মুখবন্ধ খামে (sealed envelope) জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়, যাতে গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। অভিযুক্ত স্বামী দাবি করেন এসব তথ্য প্রকাশ করলে তার মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হবে। মামলাটি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গিয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।

বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ—বিচারপতি শীর্ষ মনমোহন ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন—অভিযুক্ত স্বামীর যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে কল রেকর্ড ও হোটেলের বিল পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। এর আগে দিল্লি হাই কোর্টও বলেছিল ওই নারী শুধুমাত্র তার অভিযোগের সমর্থনে কিছু প্রমাণ আদালতে জমা দিতে চাইছেন, এবং তা জমা দেওয়ায় আপত্তি থাকতে পারে না; সুপ্রিম কোর্টও এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গেই একমত পোষণ করেছে।

আদানপ্রদান ও প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি আদালত বিবেচনায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে—যেমন নথি sealed envelope-এ জমা রাখা—যাতে ব্যক্তিগত তথ্য অপ্রয়োজনে ফাঁস না হয়। এই সিদ্ধান্ত বিবাহবিচ্ছেদ বা পারিবারিক আইন সংক্রান্ত মামলায় প্রমাণের স্বচ্ছতা ও প্রবাহকে প্রভাবিত করবে এবং এ ধরনের কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপনের বিধি-নীতি সম্পর্কে স্পষ্টতা প্রদান করবে।