রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বৃষ্টি হলেই খুলনার কয়েকটি এলাকা প্লাবিত, কেসিসি বিব্রত

খুলনা মহানগরীতে বৃষ্টির পানির নির্বিঘ্ন নিস্কাশন নিশ্চিত করতে বাধাসমূহ চিহ্নিত ও অপসারণের লক্ষ্যে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভাপতিত্ব করেন। সভায় কেসিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই বৃষ্টিতে নগরবাসীর যে দুর্ভোগ হচ্ছে তার জন্য কেসিসি নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারী বৃষ্টিতে অন্যান্য শহরের মতো খুলনা মহানগরীরও বেশ কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নগরীর ছয়টি এলাকায় আড়া-আবর্জনার কারণে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে—এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণেই জরুরি এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলেই নগরীর কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়; এটি কেসিসির জন্য বিব্রতকর। সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’’ তিনি সরেজমিন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উল্লেখ করেন, অন্য এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেলেও মুজগুন্নী এলাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তিনি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মতামত নেয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিমের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং মুজগুন্নী, লবনচরা ও রয়্যাল মোড়কে কেন্দ্র করে তিনটি উপকমিটি করা হবে। আরও বলা হয়েছে ওয়ার্ড পর্যায়েও মনিটরিং কমিটি করে স্থানীয় স্তরে পানিস্রোত বাধাসমূহ চিহ্নিত করে মূল কমিটিকে রিপোর্ট করতে হবে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পূর্ত বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

প্রশাসক সভায় অপারেশনাল নির্দেশনা দিয়েছেন—সুইচগেট সময়মত বন্ধ ও খোলা রাখা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে বাধা সনাক্ত করে তা অপসারণ, বক্স কালভার্ট জেট মেশিনে পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনে এক্সেভেটর ও ট্রাকসহ সমস্ত যন্ত্রপাতি প্রস্তুত থাকাসহ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

সভায় বলা হয়, ‘‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন’’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে নগরের মোট ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ২৫ শতাংশ উন্নত হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনটি পাম্প হাউজ নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধে বৈদ্যুতিক সুইচগেট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশাসক চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রকল্প শেষ হলে যে সুবিধা পাওয়া যাবে তা নিরূপণের অনুরোধ করেন এবং ড্রেন ও খালের ওপর থেকে অবৈধ দখলদারদের সরে যাওয়ার sowie নগরবাসীকে ড্রেনে বর্জ্য না ফেলতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো: রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, বাজেট ও একাউন্টস অফিসার মো: মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো: মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মো: অহিদুজ্জামান খানসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।