সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কেসিসি প্রশাসকের আহ্বান: অবৈধ দখলদার সরে যান, ড্রেনে বর্জ্য ফেলবেন না

নগরীতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে বাধা চিহ্নিত ও অপসারণে জরুরি বৈঠক গতকাল শনিবার সকালে কেসিসি ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রশাসক নগরবাসীর অচিরাচরিত দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ভারী বৃষ্টিতে খুলনার বিভিন্ন অংশের মতো খুলনা মহানগরীরও কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিশেষত শহরের ছয়টি এলাকায় সমস্যা হওয়ার পর এগুলো দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক মঞ্জু বলেন, বৃষ্টি হলে কয়েকটি এলাকা নিমজ্জিত হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয় এবং কেসিসির জন্য বিব্রতকর। শুক্রবার সরেজমিনে ছয়টি স্থানের পরিদর্শনের সময় দেখা গেছে অন্যান্য স্থানের পানি দ্রুত নেমে গেলেও মুজগুন্নী এলাকার পানি নিষ্কাশন হচ্ছেনা। ভবিষ্যতে এমন অবস্থা যাতে না হয় তার ব্যবস্থাগ্রহণে তিনি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিকদের মতামত নেয়া ও সংশ্লিষ্টদের আরও সচেতন থাকার নির্দেশ দেন।

সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিমের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং মুজগুন্নী, লবনচরা ও রয়্যাল মোড়কে ফোকাস করে তিনটি উপ-কমিটি করা হবে। এছাড়া ওয়ার্ড স্তরে মনিটরিং কমিটি গঠন করে স্থানীয়ভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে প্রধান কমিটিকে রিপোর্ট করা হবে। প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পূর্ত বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও সভায় বলা হয়।

প্রশাসক অপসারণমূলক তৎপরতা দ্রুততার সঙ্গে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেন—স্লুইসগেট সময়মতো খোলা ও বন্ধ রাখা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কে প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করে তা তাত্ক্ষণিক অপসারণ, বক্স কালভার্ট জেট মেশিন দিয়ে পরিষ্কার করা এবং এক্সেভেটর ও ট্রাকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা।

সভায় বলা হয়, ‘‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন’’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে নগরীর মোট ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ২৫% উন্নত হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনটি পাম্প হাউস নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং জোয়ারের পানি প্রবেশ রোধে বৈদ্যুতিক স্লুইসগেট স্থাপনের প্রকল্প আছে।

প্রশাসক চলমান ড্রেনেজ প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সুবিধাসমূহ নির্ধারণে বলেন এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি নগরবাসীর প্রতি আবেদন জানান—ড্রেন ও খালের ওপর থেকে অবৈধ দখলদাররা যেন সরে যায় এবং কেউ খালে বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলবে না।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মোঃ রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, বাজেট ও অ্যাকাউন্টস অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, কঞ্জারভেন্সি অফিসার মোঃ অহিদুজ্জামান খানসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তারা।