নীল-সাদা জার্সিতে দেশের জন্য রক্ষণে দীর্ঘদিন নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। কেরিয়ারের শেষ আন্তর্জাতিক মিশন হিসেবে চলা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ অভিযানটি হয়তো আর সোনাঝরা ট্রফি দিয়ে পূর্ণ হয়নি, কিন্তু তাঁর হৃদয়ে কোনো অনুশোচনা রেখেছেন না—নিজে সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার তৃপ্তি নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিদায় জানালেন।
৩৮ বছর বয়সী এই প্রবীণ সেন্টারব্যাক বহুদিন ধরে দলের অন্যতম আস্থা-নির্ভর অংশ ছিলেন। তিনি আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এবারের বিশ্বকাপ হবে দেশের হয়ে তার শেষ বাইবোধিক অভিযান। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অধিকাংশ ম্যাচে একাদশে না থাকলেও দলের প্রয়োজনে প্রতিবারই নিজের সেরাটা দিয়েছেন; বিশেষত সংবাদসমাপ্ত ফাইনালে সতীর্থ লিসান্দ্রো মার্তিনেস মাঠ ছাড়ার পর কোচের আস্থার প্রতীক হয়ে রক্ষণে নামতে দেখা গেছে তাঁকে। চলমান টুর্নামেন্টের ৮টি ম্যাচের মধ্যে ৭টিতে মাঠে নেমে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া আবেগঘন এক বার্তায় তিনি দেশকে জার্সি তুলে রাখার কথা নিশ্চিত করেন। অশ্রুভেজা কণ্ঠে সতীর্থ ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘স্বপ্নপূরণ না হওয়া যন্ত্রণা বড়, কিন্তু এই ৫০ দিনের অক্লান্ত ত্যাগ, চোখের জল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতার জন্য আমি গর্বিত। জয় বা পরাজয় খেলারই অংশ, কিন্তু দেশের জার্সির সম্মান শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত রক্ষাই সবচেয়ে বড় কথা। আমরা ভাঙা হৃদয় নিয়ে ফিরছি, কিন্তু নিজেদের সেরাটা দেওয়া-য় যে তৃপ্তি আছে, তা আমাদের সঙ্গে থাকবে।’
ওতামেন্দি আর্জেন্টিনার আধুনিক সোনালী অধ্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ কায়দারী ছিলেন। জাতীয় দলে তিনি ১৩৯টি ম্যাচে খেলেছেন এবং ৮টি গোল করেছেন। শিরোপার হিসাবেও তাঁর নাম আলোকিত: ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি ফিনালিসিমা—এই সব সাফল্যের সঙ্গে তার অবদান জড়িত। ক্লাব পর্যায়ে ম্যানচেস্টার সিটি, বেনফিকা, ভ্যালেন্সিয়া ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মতো ক্লাবে রক্ষণভার পরিচালনার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাও তার ঝুলিতে রয়েছে।
যদিও জাতীয় দলে চিরতরে বিদায় জানালেন, কিন্তু ক্লাব ফুটবলের বুট জোড়া এখনই হাতে রাখছেন। বেনফিকার সঙ্গে চুক্তি শেষ করে ইউরোপীয় অধ্যায় শেষ করে তিনি নিজ দেশে ফিরেছেন এবং আন্তর্জাতিক জীবনের সমাপ্তির পর এখন থেকে আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিভার প্লেটের হয়ে নিজের ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক পেশাদার ফুটবলার হিসেবে দেশের জন্য সর্বশক্তি উজাড় করে দেওয়ার পর নিকোলাস ওতামেন্দি কৃতজ্ঞতা ও গৌরব নিয়ে মাঠ থেকে বিদায় নিলেন—এক জন লড়াকু, এক জন দলপ্রাণ ক защитক, এবং অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।





