বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিল্লির যন্তর মন্তরে ভিড় বেড়েই চলছে, আন্দোলন ছড়াল বিদেশেও

দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মানুষের সমাগম বাড়তে শুরু করে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় চোখে পড়ার মতো ছিল। আন্দোলনটি প্রথমে নীট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও এখন তা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং সংগঠিত দাবিতে গড়ে উঠছে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে পরিচিত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে পড়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, এবং তাঁর পাশে সমর্থকরা যান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ জোরদার করছেন। আন্দোলনের প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার আন্দোলন থেকে সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিও তুলে ধরেন। দাবির মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি অভিযানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং সংসদে কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা।

দেশীয় ওই প্রতিবাদের প্রভাব এবার দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে সোনম ওয়াংচুক ও আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আন্তর্জাতিক কর্মসূচির আয়োজনের দায়িত্বে ছিল ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামধারী একটি সংগঠন, সংবাদে বলা হয়েছে।

আগেরদিন সংসদ অভিমুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)–এর মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন; বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের ওই পদক্ষেপে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দা লক্ষ্য করা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে মঙ্গলবার বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং শিবসেনা (উদ্ধব) শাখার নেতরা। ওইসময় পুলিশ তাদের আটক করে। আটক অবস্থায় প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী তার পাঁচ দফা দাবি জানান এবং আন্দোলন দমনে সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করেন।

রাজ্যসভায়ও বিষয়টি তোলা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যসচিব নাদিমুল হক ছাত্র-যুব নেতাদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চান বলে নোটিশ দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন, এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন।

অন্যদিকে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে এবং আন্দোলনের ডিজিটাল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এইসব অভিযোগ ও সরকারের কড়া অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছে।

স্থির হওয়া প্রশ্ন হলো—কেননি বিষয়টি এত তীব্রভাবে তোলপাড় করল এবং ভবিষ্যতে কীভাবে দাবি বাস্তবায়ন বা সমাধান করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার, প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরাও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি ঠান্ডা রাখতে সাড়া দেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।