শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি, খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ ২০ জুন

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

জোটটি জানিয়েছে, ১৬ মে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে এবং পরবর্তীতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। খুলনায় প্রথম ধাপে ইতিবাচক সমাবেশের দিন ধার্য করা হয়েছে ২০ জুন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েও সরকার সেই জনভোটকে উপেক্ষা করছে। নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সরকার সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভরসায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ এড়িয়ে ছলচাতুরি করছে।

জোটের ঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশের সূচি মতে: ১৬ মে রাজশাহী; ১৩ জুন চট্টগ্রাম; ২০ জুন খুলনা; ২৭ জুন ময়মনসিংহ; ১১ জুলাই রংপুর; ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেট।

আযাদ বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহার কারণে মে মাসে কেবল একটি বিভাগীয় সমাবেশ রাখা হয়েছে; ঈদের ছুটির পর জুন থেকে পূরোদমে আন্দোলন ও সমাবেশ পুনরায় শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সব জেলা ও মহানগরের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, বিভাগীয় সমাবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হবে। বিশেষ করে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে জনমত গঠন করা হবে। দেশের সাতটি বিভাগে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারও চালানো হবে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, জনগণের রায় নিয়ে ‘‘ছিনিমিনি খেলা’’ চলছে এবং এ অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করতে হবে। তিনি ছাত্র সমাজকেও এই আন্দোলনে সক্রিয় ও সজাগ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

জোটের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘গণভোট অনুমোদিত জুলাই আদেশ’ অনুসারে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বর্তমানে তাদের দুই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি চলছে। গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে এবং ২৫ এপ্রিল অন্যান্য মহানগরে ১১ দল গণমিছিল করেছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২ মে দেশের সব জেলা শহরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠক ও ব্রিফিংয়ে দলীয় নেতৃত্বের এই বার্তা— সংবিধানভিত্তিক দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের পরিকল্পিত কৌশলকে প্রতিহত করা হবে।