জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে কণ্ঠরোধ করছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আপনারা সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। এনসিপি আপনাদের সমর্থন জানাবে।”
অনুষ্ঠনাটি ছিল নেতৃত্ব ও সাধারণ নাগরিকদের এনসিপিতে যোগদানের উদযাপন। এতে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং রেলের অনিয়মবিরোধী আন্দোলনে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। ফেরসামিন বিদেশে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি; অন্যরা অনুষ্ঠানে মঞ্চে ছিলেন এবং তাঁদের পরিচয় ঘোষণার পর নাহিদ ইসলাম ফুল দিয়ে তাঁদের বরণ করেন।
বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকার গণভোটকে অস্বীকার করেছে এবং সেই নির্বাচনকে একটি সাধারণ ক্ষমতার পটপরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিধানগুলো একে একে বাতিল করার মাধ্যমে সরকার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের জন্য সুযোগ তৈরির মতো পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে দলীয়করণ করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার রাজনীতির পুনরুজ্জীবন ঘটছে—এমন অভিযোগও তুলেন নাহিদ। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ বা নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র তথা পুরোনো স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণ আবারও সংগঠিত হবে। জনগণ এনসিপির ছায়াতলেই ঐক্যবদ্ধ হবে—আমরা সেই সাড়া সারাদেশ থেকে পাচ্ছি।”
এনসিপি সারাদেশে কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানিয়েছেন নাহিদ। তিনি বলেন, “প্রতি সপ্তাহেই আমাদের যোগদান কর্মসূচি চলবে। রাজনীতি-সচেতন মানুষ ও তরুণদের কাছে আমাদের আহ্বান: এই দেশের ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে। যারা রাজনীতি করতে চান ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন, তারা ঐক্যবদ্ধ হন। এনসিপি আপনাদের ধারণ করে এগোতে চায়।”
বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার দিক দিয়ে ক্রমশ ধাক্কা খাচ্ছে—এমন মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, দেশের অর্থনীতি টালমাটাল এবং গণতন্ত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, “এসব পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে ঐক্যবদ্ধভাবে না দাঁড়ালে আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ।”





