বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত একাধিক ভুয়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, জরুরি জরিপে মোট ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের ভান করে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টিরও বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (এক্স) অ্যাকাউন্টও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এই তথ্য তিনি বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে জানান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্ত্রী জানান। তিনি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণী ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে; এর মধ্যে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩০৬টি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংবাদপত্রকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে এবং ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণও জোরদার করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে মোট ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় স্বল্পসংখ্যক প্রশিক্ষণে ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেক বিষয়ক ১৪টি বিশেষ কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব মোকাবিলা, ফ্যাক্টচেকিং ও সাংবাদিকতায় এআই ব্যবহার বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, শিগগিরই গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতেও এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।