দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা মধ্যরাতে অপেক্ষা করছে — মেসি ও ইয়ামালের মোকাবেলায় আজ রোববার দিবাগত রাত ১টায় শুরু হবে বিশ্বকাপের মহারণী ফাইনাল। আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের এই ম্যাচটি তাই ক্রীড়ার সবচেয়ে আলোচিত ইভেন্টে পরিণত হয়েছে, আর উন্মাদনা কাজে লাগিয়ে টিকিটের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে।
ফাইনাল আয়োজন করা হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফিফার অফিসিয়াল টিকিট রিসেল সাইটের সন্ধান অনুযায়ী সবচেয়ে নিম্ন ক্যাটাগরির রিসেল টিকিটের দামে শনিবার সকালে দেখা গেছে ৬,৪১১ ডলার — যা আনুমানিক প্রায় ৮ লাখ বাংলাদেশি টাকার সমপরিমাণ। এই টিকিটে দর্শকরা গোলবারের পেছন থেকে মাঝামাঝি স্থানে বসে খেলা দেখতে পারবেন।
উপরের ডেক বা আপার ডেকের টিকিটের শুরুমূল্য প্রায় ১০ হাজার ডলার (প্রায় ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা) থেকে। আরও কাছাকাছি বসার জন্য চাইলে প্রাথমিক দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৬ হাজার ডলার (প্রায় ২০ লাখ টাকা)। সবচেয়ে প্রিমিয়াম হসপিটালিটি আসনগুলোর রেট প্রায় ৬০ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ লাখ টাকার মতো।
রিসেল মার্কেটের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলো—সিটগিক (SeatGeek) ও স্টাবহাব (StubHub)—ও একই চলক দেখাচ্ছে। সিটগিক ও স্টাবহাবের তালিকায় আপার ডেকের টিকিট সাধারণত ১০ হাজার ডলার থেকে শুরু, আর লোয়ার বোলের কিছু চয়েসড আসনের অনলাইনে দাম উঠেছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার পর্যন্ত (অনুমানিক কয়েক লাখ টাকার অতিরিক্ত)।
টিকিটের এই উন্মাদনার পেছনে মূলত ম্যাচের গভীর আকর্ষণই কাজ করছে: একদিকে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি — যিনি সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ, প্রতিভাবান লামিনে ইয়ামাল — যাকে এখনই ভবিষ্যৎ সুপারস্টারের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই গ্যালারিতে বসার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
আর্জেন্টিনা তাদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মত বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে। দীর্ঘদিনে কোনো দল ধারাবাহিকভাবে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি — ব্রাজিলই একমাত্র দল যাঁরা ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ধারাবাহিক শিরোপা জিতেছিল। স্পেনের একমাত্র বিশ্বকাপ জয় ছিল ২০১০ সালে।
ম্যাচ নিয়ে উৎসাহ-আকাংক্ষা ও টিকিটবাজারের উর্দ্ধমুখী দর—দুটোকেই মিলিয়ে ফুটবল উৎসবটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।





