শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান; তিন কমিশনার নাহিদ, নাফিজ-আল-তারিক ও তানভীর

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন দায়িত্বে নিয়োগ পেয়েছেন ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ারের মাসুদ খান। আর তিন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ-আল-তারিক এবং আশা ইন্টারন্যাশনের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রত্যেকের নিয়োগ চার বছরের জন্য এবং আজ বিকেল ৩টায় বিএসইসির কার্যালয়ে তাঁরা যোগদান করবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুসারে মাসুদ খানকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ গ্রহণের আগে তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করবেন এবং বেতন-ভাতা সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

মাসুদ খান বর্তমানে ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (গ্রুপ সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়্যারম্যানও। করপোরেট ও পুঁজিবাজারে তার চার দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে—এর মধ্যে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর সিএফও হিসেবে কাজ করেছেন এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে দেশে ও বিদেশে দুই দশক ধরে উচ্চস্তরের আর্থিক দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র স্বাধীন পরিচালক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।

আইনি বাধা দূর করেই এই নিয়োগ সম্ভব হয়েছে—জাতীয় সংসদ ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সালে ‘‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’’ পাস করার মাধ্যমে পূর্বের ৬৫ বছরের বয়সসীমা তুলে নিয়েছে। ফলে ৭১ বছর বয়সী এই করপোরেট নেতার নিয়োগে পথ সুগম হয়।

এর আগের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার কমিশনার মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন বৃহস্পতিবার (৪ জুন) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিরোধসমূহকে এগুলোর পটভূমি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পদত্যাগের পর খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কমিশন বাজারের আইনী কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন বিধি-নিয়ম প্রণয়ন করেছে। গত ২১ মাসে মার্জিন ঋণ, আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র ও হুইসেলব্লোয়ার-সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট ও করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা জনামতে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া মহৎ উদ্দেশ্যে কমিশন কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট জোরদার করেছে এবং বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধি ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ নিয়েছে—যেমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রসার, শিক্ষার্থী অংশগ্রহণমূলক ভিডিও প্রতিযোগিতা ও তৃণমূল সচেতনতা কার্যক্রম।

তবে বাজারে ধারাবাহিক দরপতন, লেনদেনের কমতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দীর্ঘসময় ধরে বজায় থাকায় নতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নেই। পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কমিটি সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার, বাজার শাসন-ব্যবস্থা ঠিক করা এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দেখতে চান।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এক সেমিনারে জানান, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনতেই বিএসইসিকে পুনরায় গঠন করা হচ্ছে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে, কোনও রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী—মাসুদ খানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে সক্ষমতা বাড়বে। তথাপি বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত ও সুচিন্তিতভাবে মোকাবেলা করাই নতুন নেতৃত্বের মূল পরীক্ষা হবে।