শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক স্থগিত

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর বাতিল হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনাও অন্তত আপাতত স্থগিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউস বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানায়, ভ্যান্স এই মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না এবং এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন একদিন আগে দুপক্ষের অংশগ্রহণে সংঘাত বন্ধের একটি চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলেছিল। চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির কথাও উল্লেখ ছিল। তবুও রাতভর দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে হামলা হিজবুল্লাহয়ের অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে লক্ষ করে চালানো হয়েছে। একই সংঘর্ষে ইসরায়েলেরও চার সেনা নিহত হয়েছেন।

হিজবুল্লাহঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ইসরায়েলের এই হামলাকেই তারা আলোচনা স্থগিত হওয়ার দায়ী হিসেবে দেখছে — এবং এ দাবি হোয়াইট হাউসের বিবৃতির কয়েক ঘণ্টা আগেই করা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর সেই চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করার জন্য সুইজারল্যান্ডে বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন বলছে, আলোচনার সময়তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং তারা যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি আলোচনাগুলো পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী।

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, বুর্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে ঠিক করা বৈঠকটি ‘স্থগিত’ রাখা হয়েছে। তবে তারা বলেছে আলোচনার প্রস্তুতি কাজ এখনও চলছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল হওয়া চুক্তির সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করা। চুক্তির ১৪ দফায় হরমুজ নদীবন্দর, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি, পুনর্গঠনের তহবিল এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, সাংঘর্ষিক ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বেপরোয়া’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অতীতের চাপ-চক্রান্তই এই ফলাফল ঘটিয়েছে। খামেনি ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলাপচারিতার সম্ভাবনার কথাও উত্থাপন করেছেন, তবে এ ধরনের আলোচনা মানেই শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়া নয়—এমন মন্তব্যও করেছেন।

প্রতিবেদন সূত্র: বিবিসি