সাবেক কংগ্রেসনেত্রী তুলসী গ্যাবার্ড গতকাল শত শত ই-মেইল ও অভ্যন্তরীণ নথি প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে করোনা মহামারির উৎস নিয়ে তথ্য আড়াল ও তত্ত্ব মুছানোর পিছনে তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউসির হাত থাকতে পারে। প্রকাশিত নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে ফাউসির নেতৃত্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি-তে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণায় আমেরিকান তহবিল গিয়েছে এবং ওই ল্যাব থেকেই সম্ভবত ভাইরাস ছড়িয়েছে — এটি মূলত মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রে উত্থাপিত একটি দাবি।
গ্যাবার্ডের প্রকাশিত দলিলে বলা হচ্ছে, মহামারির সময় ফাউসি জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘ল্যাব-লিক’ তত্ত্বকে খর্ব করেছেন এবং প্রাকৃতিক উৎসের ওপর জোর দিয়ে গোয়েন্দাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন। ওই নথি ও ই-মেইল থেকে দেখা যাচ্ছে যে এনআইআইডি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস) উহান ইনস্টিটিউটে কিছু গবেষণার জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে—এটি নথিতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ড. ফাউসি আগে কংগ্রেসে শপথপূর্বক বলেছেন যে মহামারির সময় বা তার আগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার সূত্র নেই। তবে গ্যাবার্ডের প্রকাশ করা নথিপত্রগুলোতেও এই দুই বিবৃতির মধ্যে ব্যবধান আছে—নথিগুলোতে এমন যোগাযোগ ও তহবিল সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ পাওয়া গেছে, এমনটাই দাবি করছে প্রকাশকার্য।
গ্যাবার্ডের অভিযোগের মূল সারাংশ তিনটি করে উপস্থাপিত করা হয়েছে: প্রথমত, তহবিল সচল রেখে ঝুঁকিপূর্ণ করোনাভাইরাস গবেষণাকে চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা; দ্বিতীয়ত, জাতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে ভাইরাসের উৎপত্তিকে ‘পূর্ণতপ্রাকৃতিক’ হিসেবে উপস্থাপন করানো; এবং তৃতীয়ত, মহামারির সময় এমন বিজ্ঞানীদের খানিকটা বন্ধ করা বা তাদের কণ্ঠরোধ করা যারা ল্যাব-লিক তত্ত্ব সমর্থন করতেন।
প্রকাশিত নথিতে হুইসেলব্লোয়ারদের কথাও উঠে এসেছে। তারা বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থার ভিতরে যারা ল্যাব-লিক তত্ত্বের পক্ষে বৈজ্ঞানিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছিলেন, তাদের ওপর মানসিক চাপ, পদোন্নতি আটকে দেওয়া ও চাকরিচ্যুতির মতো ফলও হয়েছে। গ্যাবার্ড এসব নথি গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কাছে পাঠিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
গোটা বিষয়টি রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে বহুল বিতর্কিত। গত কয়েক বছরে করোনা উৎস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও গোয়েন্দা মহলে মিশ্র ও প্রায়ই বিপরীতমুখী ফল দেখা গেছে—কিছু সংস্থা ল্যাব-লিক তত্ত্বের প্রতি সন্দেহ পোষণ করেছে, অন্যরা প্রাকৃতিক উৎসকে ঝোঁক দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্যাবার্ডের এখনকার এই প্রকাশনা ড. ফাউসি ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে, তবে এইসব দাবি তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা অভিযোগই হিসেবেই রয়ে যাবে।





