রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থমন্ত্রী নিশ্চিত: সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের আমানতকারীরা সুদসহ টাকা পাবে

অর্থমন্ত্রী আবির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সমস্যায় পড়া ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা তাদের টাকা সুদসহ ফিরিয়ে পাবে — তবে এর জন্য সময় লাগবে। গতকাল সংসদে জরুরি নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই আশ্বাস দেন এবং বলেন, এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের ওপর কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না।

মন্ত্রী জানান, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলো একীভূত করে সম্মিলিতভাবে ‘ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোতে রয়েছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। যদিও এসব ব্যাংক লোকসানে থাকায় আমানত ফেরত দিতে সময় লাগবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ও লেনদেনে যারা দায়ী, তাঁদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। অডিটের পর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া আইনগত ক্ষমতার মাধ্যমে দায়ীদের সম্পত্তি বা তহবিলের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বিক্রি ও নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেওয়ানি মামলা করাও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে এগোচ্ছে। বিদেশে পাচার করা খেলাপি ঋণের টাকা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণ আদায়ের জন্য ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তার জন্য ৯টি ফার্মকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রথম পর্যায়ের দেওয়ানি কার্যক্রমে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট গ্রুপকে টার্গেট করা হয়েছে।

এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে লাখ লাখ আমানতকারী তাঁদের টাকা তুলতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহক এই সমস্যায় পড়েছেন এবং অনেক গ্রাহক মন্ত্রীর বাড়ির সামনে মানববন্ধনও করেছে। রানু ‘হেয়ারকাট’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রাহকদের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে এবং তাদের আস্থা রক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

জবাবে মন্ত্রীৎ বলেন, তিনি ঘটনার দিকটি হৃদয়বিদারক হিসেবে দেখেন ও পরিস্থিতি মনের ভিতরে বেদনাদায়ক। তিনি আরও বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে আমানতকারীদের টাকা ও সুদ ফেরত দেওয়ার জন্য কাজ করছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি সমাধানের কারণ ব্যাখ্য করে ধৈর্য চেয়েছেন।

সংক্ষেপে, অর্থমন্ত্রী পরিষ্কার করেছেন: আমানতকারীরা সুদসহ তাদের টাকা পাবেন, ‘হেয়ারকাট’ দেয়া হবে না; তবে ব্যাংকগুলোর বড় ধরনের লোকসান ও আইনি-আর্থিক জটিলতার কারণে তা দিতে কিছু সময় লাগবে। প্রশাসনিক ও আইনগত পথে সম্পদ উদ্ধার ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে দ্রুত টাকা ফেরত দেয়ার চেষ্টা চলছে।