সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অতিরিক্ত সময়ের গোলে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিতে

কথায় আছে, চ্যাম্পিয়নরা পরিস্থিতি নিজেরাই তৈরি করে নেয়—আজ সেটাই করল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ উন্মুক্ত থেকেও ফলটা মেলেনি, অতিরিক্ত সময়ে একের পর এক আক্রমণ চলল এবং শেষ পর্যন্ত ১১২ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেস সেই মুহূর্তটি আলোকোজ্জ্বল করে দিলেন। যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেসের গোলে ৩-১ ব্যবধান নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠল।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক দেখিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচে প্রথম গোলটি আসে মাত্র ১০ মিনিটে—লিওনেল মেসির corner থেকে আলেকসিস ম্যাক আলিস্টারের দারুণ হেড। মেসির জন্য এটি বিশ্বকাপে রেকর্ড দশম অ্যাসিস্ট ছিল।

প্রথমার্ধের পর আর্জেন্টিনা কিছুটা সরে গেলে সুইজারল্যান্ড পড়ে রঙ তুলতে শুরু করে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ গড়লেও প্রথমার্ধে সুইসরা এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বিশেষ চাপে ফেলতে পারেনি এবং দুই টিমই বিরতিতে যায় ১-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে ছবি বদলায়—সুইজারল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয় এবং ৬৭ মিনিটে রিকার্দো রদ্রিগেজের সঙ্গে দুর্দান্ত বোঝাপড়ার পরে বাঁপ্রান্ত থেকে দান এনদোয়ে সমতা টেনে আনে।

কয়েক মিনিট পর ম্যাচের মোড় আসে ভিএআর’র মাধ্যমে। প্রথমে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দেখানো হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়, আর পরিবর্তে অভিনয়ের দায়ে ব্রিল এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ দেখানো হয়; মুহূর্তেই সুইজারল্যান্ড দশজন হয়ে যায়।

একজন খেলোয়াড়ের বেশি থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনা আর গোল করতে পারেনি। যোগ করা সময়ে মেসির বাঁ পায়ের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। অতিরিক্ত সময়েও ভাগ্য যেন সুইসদের সঙ্গে ছিল—গ্রেগর কোবেল কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে আলমাদা, মেসি ও রোমেরোদের প্রচেষ্টাকে নাকচ করে দেন। অনেকেই ভাবছিলেন, ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াবে।

কিন্তু আর্জেন্টিনার সাববেরাই ছিল অন্যরকম। ১১০ মিনিটে হোসে মানুয়েল লোপেস বদলি হিসেবে নামেন এবং দুই মিনিট পর তাঁর বাড়ানো বলে বক্সের বাঁ প্রান্তে পেয়ে অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে আলো ছড়ান জুলিয়ান আলভারেস—এটাই তার বিশ্বকাপে প্রথম গোল, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে।

সুইজারল্যান্ড মরিয়া হয়ে আবার সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা প্রথম মিনিটে গ্রানিত জাকার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আলভারেস। থিয়াগো আলমাদার শট প্রথমে কোবেল ঠেকালেও ফিরতি বল লাউতারো মার্তিনেসে পড়ে এবং তিনি ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লসিত হল মাঠ—মেসি ও তাঁর সতীর্থরা উদযাপনে মেতে ওঠে। ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করল, নকআউট পর্বে তাদের হারানো সহজ নয়। এবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের মুখোমুখি হতে হবে।