মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সেমিফাইনালে ফিরছে চিরবৈরী দ্বৈরথ: ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

ফুটবলের সবচেয়ে আক্রোশপূর্ণ ও ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আবারও বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ফুটে উঠছে। কোয়ার্টার ফাইনালের নাটকীয় জয় থেকে বেরিয়ে এসে বুধবার আটলান্টার মাঠে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা—একটি ম্যাচ যা শুধু ফাইনালের টিকিটের লড়াই নয়, কয়েক দশকের পুরনো শত্রুতা ও ক্রিকেটের বাইরে রাজনৈতিক স্মৃতিকেও জাগিয়ে তুলেছে।

সেমিফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে আর্জেন্টিনা কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ের শেষে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড মায়ামিতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে; ম্যাচে জুড বেলিংহামের শেষ মুহূর্তের গোল এবং অতিরিক্ত সময়ের জয়ের মুহূর্ত ছিল বিশেষভাবে নড়বড়ে ও উত্তেজনাপূর্ণ। এই জয়ীরা আগামী ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে ফ্রান্স বনাম স্পেনের সেমিফাইনাল জয়ীর মুখোমুখি হবে।

মাঠের বাইরে ইতিহাসের ছায়াও বড় ভূমিকা রাখে—১৯৮৬ সালের মেক্সিকোর কোয়ার্টার ফাইনালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও সেই সময়কার শতাব্দীর সেরা একক গোলের কথা এখনও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তাজা। তেমনি ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (আর্জেন্টাইনদের ‘মালভিনাস’) যুদ্ধের রাজনৈতিক আভাসও এই লড়াইয়ের আবহকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি কানসাস সিটির ম্যাচের পরে ঘটনাটিকে খেলার পরিসরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ—আর কিছুই বলব না। আমাদের সামনে কঠিন এক প্রতিপক্ষ আছে, তাই আমরা ফোকাস করছি সেই প্রস্তুতিতেই।’’

ইংল্যান্ড-নরওয়ে ম্যাচে নাটকীয় ঘটনাও ছিল। নরওয়ের আন্দ্রেয়াস শিয়েল্ডারুপের গোলের পরে ইংল্যান্ড শিবিরে চাপ ছিল প্রবল। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান ন্যাল্যান্ড দাবি করেছিলেন যে একটি মাঠে ঝুলে থাকা ক্যামেরা ক্যাবলের সাথে বলের সংযোগ ঘুরে বলের গতিপথ বদলে গেছে; রেফারি খেলা অব্যাহত রাখেন এবং সেই আক্রমণ থেকেই জুড বেলিংহাম গোল করে সমতা আনেন। পরে অতিরিক্ত সময়ে বেলিংহামের হার না মানা পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পাঠায়।

ম্যাচ জিতেও ইংল্যান্ড কোচ থোমাস টুখেল দলগত পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, ‘‘ফল দারুণ—শেষ চারটা দারুণ লক্ষ্যই ঠিক। কিন্তু আমরা নিজেদের জীবন নিজেরাই কঠিন করে ফেলেছি; এমন খেলা নিয়ে আমি খুশি নই। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে জিততে হলে আমাদের ব্যাপক উন্নতি করবে লাগবে।’’

ফিফা পরে জানায় তাদের সেন্সরে ক্যামেরা ক্যাবল এবং বলের সংস্পর্শের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবু নরওয়ের কোচ স্টেলে সোলবাকেন দাবি থেকে সরেননি; তিনি বলছেন, ‘‘ওটা আমাদের দুর্ভাগ্য ছিল, বলের গতিপথ বদলে গিয়েছিল।’’

নরওয়ে দলের সুপারস্টার আর্লিং হালান্ড এই টুর্নামেন্টে সাত গোল করে দলের ইতিহাসের সেরা সাফল্যে বড় ভুমিকা রেখেছিলেন; কিন্তু এই ম্যাচে গোল না করেই তার দেশের হয়ে টানা ১৫ ম্যাচের গোলের ধারাবাহিকতা থেমে গেল। বিদায়ের সময় হালান্ড আবেগঘন ছিলেন—বললেন যে তারা নরওয়েকে বিশ্বফুটবলের মানচিত্রে তুলে এনেছে এবং আশা করেন এটি তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

এখন সবকাํই নজর আটলান্টার ওপর—ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা যে কোনও মুহূর্তে ইতিহাস লিখতে পারে। কেবল একটি জয় ফাইনালের দরজা খুলে দেবে, আর পেছনে লেগে আছে পুরনো ক্ষতচিহ্ন, গৌরব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প। বুধবারের এই মহারণে বিশ্বজোড়া ফুটবলপ্রেমীর নজর কেবলই ম্যাচের উপর।