স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর রাজনীতি জোরপূর্বক বন্ধ করতে চায় না; বরং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী অভিযোগপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্য্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রশাসনিক বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গতকালগুলোতে আওয়ামী লীগ যে নির্যাতন ও লুণ্ঠন পরিচালনা করেছে, তার দায় তারা এড়াতে পারবে না। এমন গুরুতর হত্যা-নির্যাতনের পরও দলের নেতারা অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনায় আগ্রহী নয়; বরং জুলাইয়ের বীরযোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে আবারও রাজনীতিতে ফিরে আসার সন্দেহভাজন পরিকল্পনা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের ফলে দেশে গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। এই অর্জন রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। তিনি সবাইকে বলেছেন, যদি সমাজে বিভাজন Rent করে তাহলে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে — এটাই আমরা চাই না।
অতিরিক্ত করে তিনি সবাইকে ‘জুলাইয়ের চেতনাকে’ ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান এবং ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সরকার যাতে স্বৈরাচারি বা ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য জনগণের ঐক্য জরুরি বলেও জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সরকারের কর্মকাণ্ডের বিচারের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে আদালতের রায় কার্যকর করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করব। বিদেশে আশ্রয় নেওয়া সন্দেহভাজন ফ্যাসিবাদীদের ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।
ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, সংবিধানের গণতান্ত্রিক সংশোধন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠন করে ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ছাত্ররাজনীতিকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রসংগঠনগুলোকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে জানান।
আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।





