সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পাঁচ ব্যাংক একীভূত: আমানতকারীরা সুদসহ টাকা পাবেন—অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সমস্যাজনক ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের টাকা সুদসহ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতি সরকার দায়িত্বশীল। সংসদে তিনি বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে কোনো ‘হেয়ারকাট’ হবে না; তবে ব্যাংকগুলো লোকসানে থাকায় সময় লাগবে।

আজ বুধবার সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি-৭১ অনুযায়ী জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেওয়া নোটিশের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ অনিয়মের দায়ীদের শনাক্ত করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিট চলছে। ওই অডিট প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্পদ পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায় নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী ব্যক্তিদের মালিকানাধীন তহবিল ও সম্পত্তি দখলে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে সরকার। এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বৈধ সম্পত্তি বিক্রি ও নিলামের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেওয়ানি কার্যক্রমেও সরকার এগোচ্ছে বলে জানানো হয়। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা খেলাপি ঋণের টাকা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩০টি ব্যাংক তাদের ঋণ উদ্ধারের জন্য নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করেছে এবং ৯টি আন্তর্জাতিক আইনফার্মকে ‘নো উইন, নো ফি’ শর্তে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। অগ্রাধিকারভিত্তিতে ১১ চুক্তির প্রথম পর্যায়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, এস আলম, বেক্সিমকো, সিকদার, নাসা ও ওরিয়েন্ট গ্রুপকে নিয়ে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্নীতি ও মালিকপক্ষের অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু সংসদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, কয়েক লাখ—প্রতিবাদে বলা হয়েছে ৭৫ লাখ—গ্রাহকের টাকা আটকে পড়েছে; তারা চিকিৎসা, বিদ্যা ও বৈবাহিক ব্যয়ের মতো জরুরি প্রয়োজন মিটাতে পারছেন না। এর মধ্যে ‘হেয়ারকাট’ নামক একটি নীতিগত ঝুঁকি গ্রাহকদের জন্য আরও ভীতি তৈরি করছে।

রানু অভিযোগ করেন, যারা গ্রাহকের টাকা লুট করেছে তাদের কোনো ক্ষমা হতে পারে না; তাদের ফিরিয়ে এনে গ্রাহকের টাকা আদায় করতে হবে। তিনি মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, কীভাবে ৭৫ লাখ গ্রাহককে দ্রুত স্বস্তি দেওয়া যাবে এবং ‘হেয়ারকাট’ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভীতসন্ত্রস্ত বোধ করছি। এটা একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব এর সঠিক সমাধান দেওয়া।’ তিনি পুনর্বার আশ্বাস দেন, যারা আমানতকারী তাদের আমানত সুদসহ ফেরত দেওয়া হবে—ইনশা আল্লাহ—কিন্তু এজন্য ধৈর্য ধরে সময় দিতে হবে কারণ ব্যাংকগুলো বর্তমানে লোকসানের মধ্যে রয়েছে এবং লোকসানি প্রতিদিন বাড়ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, সরকার জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে এবং ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবে আমানতকারীরা তাদের টাকা ও সুদ ফেরত পাবেন। তিনি গ্রাহকদের অনুকূল সমাধান আনার চেষ্টা চলছে বলেও আশ্বস্ত করেন, তবে তা বাস্তবায়ন করতে কিছু মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।