শনিবার, ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা উঠল

মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দিয়ে officieel ভলিউম—আলো-ইফেক্ট ও সঙ্গীতের এক নান্দনিক মিশ্রণে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা সোমবার রাতে উঠল। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ম্যাচ দিয়েই টুর্নামেন্টের মাঠের লড়াই শুরু হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল সংক্ষিপ্ত হলেও দর্শকমহলে উচ্ছ্বাসের আঁচ পড়িয়েছিল—মোটামুটি ২০–২৫ মিনিট ধরে চলে সঞ্চালিত বর্ণাঢ্য আয়োজন। মঞ্চে ছিলেন বিশ্বসঙ্গীতের দাপুটে নামরা বহু তারকা, এবং এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়েন শাকিরা ও বার্না বয়। তাঁরা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করে মঞ্চে উত্তাপ আনেন।

সঙ্গীত তালিকায় ছিলেন আন্দ্রেয়া বোচেলি, ডেভিড গেটা, মেগান থি স্ট্যালিয়ন ও ইজেএ—দলবদ্ধভাবে তাঁরা বিশ্বকাপের আরেকটি মূল গান ‘ডিএনএ’ এর যৌথ পারফরম্যান্স তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মেক্সিকোর নিজস্ব শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে জাঁকজমক যোগ করেছেন—পপ গায়িকা বেলিন্ডা, লোকশিল্পী লিলা ডাউনস এবং ঐতিহ্যবাহী কুম্বিয়া ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলস আজুলেস দর্শকদের মন মাতাতে সফল হন।

কিংবদন্তি মারিয়াচি কণ্ঠকার আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ মেক্সিকোর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন, আর ভেনেজুয়েলার ড্যানি ওশেন, কলম্বিয়ার জে বালভিন ও রায়ান কাস্ত্রো রেগেটনের তালে গ্যালারিতে উন্মাদনার ঝড় তোলেন।

উদ্বোধনীতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও মঞ্চে ছিলেন। উপস্থিতি থেকে পরিষ্কার—বিশ্বকাপকে ক্রীড়া নাড়ায় নয়, সাংস্কৃতি ও বিনোদনের একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তবে শুধুই মেক্সিকোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না উৎসব; সহ-আয়োজক কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেও আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ১২ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচের আগে কানাডার আয়োজন হবে—সেখানে পারফর্ম করবেন নোরা ফাতেহি, মাইকেল বুবলে, জেসি রেয়েজ, অ্যালানিস মরিসেত্তে, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা এবং বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।

পরের দিন ১৩ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মার্কিন দলের ম্যাচের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে; সেখানে মঞ্চে উঠবেন কেটি পেরি, র‌্যাপার ফিউচারের, ব্রাজিলিয়ান গায়িকা আনিতা, ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা, নাইজেরিয়ার রেমা এবং আরেক তারকা টাইলা।

তিন আয়োজক দেশ মিলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনীকে করে তুলেছে সংগীত, সংস্কৃতি ও বিনোদনের এক বর্ণিল উৎসবে—শাহরুখীর খেলার মঞ্চ হবে ফুটবল মাঠ, আর এর বাইরেও তিন দেশ তাদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি সামনে এনে বিশ্বমঞ্চে ছাপ রেখেছে।