শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৩ লাল কার্ডের উত্তাপেও মেক্সিকো ২–০ গোলে বাজিমাত করে বিশ্বকাপ শুরু

মেক্সিকো সিটিতে 열린 উদ্বোধনী ম্যাচে میزবিন্দু মেক্সিকো শক্তিশালী শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২–০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে। ম্যাচে আংশিক দুঃসাহসিকতা মিশেছে—দুই দলের মিলিয়ে দেখা গিয়েছে তিনটি লাল কার্ড—তবুও খেলায় পুরোপুরি আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদেরই।

নবম মিনিটে জুলিয়ান কিনিয়োনেসের দ্রুত গোল মেক্সিকোকে এগিয়ে দেয়। শুরু থেকেই আক্রমণে চাপ রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন একাধারে মেক্সিকোর হাতেই ছিল। খেলার মাত্র তৃতীয় মিনিটে রাউল হিমেনেজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন—তার শট রক্ষা করেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস। আট মিনিট পরে জয়ী গোল বাঁধে কিনিয়োনেসের।

প্রথমার্ধে আরো কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলেও বিরতিতে ১–০ লিডেই মাঠ ছেড়ে আসে মেক্সিকো। পরিসংখ্যানও মেক্সিকোর পক্ষে ছিল: বল দখলে ৬১ শতাংশ মেক্সিকোর, দক্ষিণ আফ্রিকার পায়ে ৩৯ শতাংশ; শট ১৫–৪ এবং লক্ষ্যের দিকে শট ৫–৩।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৫০ মিনিটের দিকে একটি ঘটনায় প্রথম লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার এক খেলোয়াড়, এতে তারা ১০ জনে নেমে আসে। এরপর ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে গিলবার্তো মোরা মাঠে নামেন—তিনি মেক্সিকোর হয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন। মাত্র এক মিনিট পরে, ৬৭তম মিনিটে রাউল হিমেনেজ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

৮৪তম মিনিটে আবারও একটি কাঁচা পরিস্থিতি ঘটলে দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক খেলোয়াড় লাল কার্ড পান এবং দলটি তখন থেকে ৯ জনে থাকা শুরু করে। যোগ করা সময়ে মেক্সিকোর সেজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখেন, ফলে দুই দল মিলে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা গেলো এই ম্যাচে।

ম্যাচ জুড়ে মেক্সিকোর কোর্টিনাইর-ধাঁচের আবদার ছিল—বল দখল, আক্রমণ ও গোলের সুযোগ সবক্ষেত্রে তারা এগিয়ে ছিল। যদিও সুযোগগুলোর সবকটি কাজে লাগাতে পারেনি, তবুও ডিফেন্সও শক্ত ছিল। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আক্রমণে তুলনামূলক নিস্তব্ধই ছিল।

ব্যক্তিগত কীর্তিও গড়েন জুলিয়ান কিনিয়োনেস; ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বিশ্বের মঞ্চে উদ্বোধনী গোলের নামেও নিজেকে মেলে ধরেন। সংবাদ অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ফিলিপ লামের দ্রুততম প্রথম গোলের পর এটি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে বিলক্ষণ দ্রুত গোলগুলোর মধ্যে একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

শেষ মিলিয়ে, খেলায় উত্সাহ আর নাটক—উভয়ই ছিল একসাথে। তিনটি লাল কার্ড ও দুইটি গোলে মেক্সিকো আনন্দ নিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করলো, এখন তারা পরবর্তী ম্যাচে কেমন করবে সেটাই দেখার বিষয়।