সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চিকেনস নেক পরিদর্শনে অর্পিত অমিত শাহ—সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গের সরকার বদল হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের তার প্রথম সফরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘুরে দেখেছেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চস্তরের বৈঠক করেছেন। সফরের প্রধান লক্ষ্য ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেনস নেক’—সেখানকার নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত নজরদারির উন্নয়ন।

শুক্রবার রাতেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমান থেকে নেমে শাহকে স্বাগত জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিএসএফ-এর কদমতলা ক্যাম্পে যান তিনি এবং সেখানে রাত যাপন করেন।

শনিবার সকাল থেকেই তাঁর কর্মসূচি ঘনিষ্ঠ ছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় শিলিগুড়ির জুমাগাছে বিএসএফ-এর ১৮তম ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকিতে পৌঁছে ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ি এলাকায় ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিদর্শন করেন তিনি। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসী কাঁটার মতো সংরক্ষিত সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং শিলিগুড়ি বর্ডার আউটপোস্টে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে প্রহরী সম্মেলনে অংশ নিয়ে ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে তিনি বৃক্ষরোপণও করেন এবং সীমান্ত পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচটাওয়ার থেকেও এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন।

এই সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিএসএফ-এর মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার ও বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। শিলান্যাস ও উদ্বোধন শেষে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেন—মোট মূল্য প্রায় ৭৭ কোটি রূপির বেশি।

সীমান্ত পরিদর্শনের পরে দুপুরে অমিত শাহ উত্তরবঙ্গের সরকারি সম্মেলনকেন্দ্র উত্তরকন্যায় পৌঁছে তিনটি ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন, যা দুপুর দুটো থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলে। বৈঠকে প্রধান আলোচ্য ছিল চিকেনস নেকের নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়, নতুন ফৌজদারি আইনের প্রয়োগ ও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, উত্তরবঙ্গের আইজি সুকেশ জৈন এবং দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারসহ সীমান্তবর্তী জেলার পুলিশ ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তারা। আট জেলার বিজেপি জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় থাকা প্রধান ইস্যুগুলো ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশ, ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র, গবাদি পশু ও মানব পাচার—এসব রোধে শাহ প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন এবং আধুনিক নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তীর্ণ বলে চিহ্নিত এই চিকেনস নেক ভারতীয় ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে; তাই এর নিরাপত্তা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগে মূলত চীন সীমান্তই নজরদারির কেন্দ্র ছিল, এখন এছাড়া বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তও গুরুত্ব পাচ্ছে—এবং নেপালকেও এ প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা হয়।

সকল কর্মসূচি শেষ করে শনিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে কলকাতায় ফিরেন অমিত শাহ। সেখানে তিনি আলিপুরের সৌজন্য গেস্ট হাউসে থাকবেন। রোববার বেলা ১১টায় তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন; দুপুর ২টায় আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘ওয়ার্ড মিউজিয়াম’ উদ্বোধন ও বিকেল ৪টায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আমুল বেঙ্গল ডেইরির নতুন দই উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সূত্র: চ্যানেল ২৪ অনলাইন।