সোমবার, ২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভয়াবহ শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণ: যুক্তরাজ্যে তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে ঘটে যাওয়া এক বড় তদন্তে শিশু যৌন নিপীড়ন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজন পুরুষের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ বিভাগ ‘অপারেশন ওক’ নামে বিশেষ একটি অভিযানের আওতায় দীর্ঘ ও জটিল অনুসন্ধানের পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে এই আটজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি আলাদা অপরাধের অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে ১৭টি ধর্ষণের মামলা।

আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগকারী কয়েকজন নারী বলেছেন যে তারা শিশু অবস্থায় (১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে) যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি এসব ঘটনার কথা নথিভুক্ত করেছেন। অভিযুক্তদের বয়স বর্তমানে প্রায় ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং সবাই ব্রিটিশ নাগরিক।

নাম প্রকাশযোগ্য নথি অনুযায়ী অভিযুক্তদের মধ্যে মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী নামের তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রয়েছেন। তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতদের আটক করা হয়েছে নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল এন্ড বিউট এলাকা থেকে।

কিছু নির্দিষ্ট অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে— বার্মিংহামের শাফাক মোহাম্মদের (৫৮) বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ বছরের নিচের এক শিশুকে ধর্ষণ এবং ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান (৫৪) এর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ষড়যন্ত্রসহ মোট আটটি অভিযোগ এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবু (৫৮) এর বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সী এক শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি অভিযোগ করা হয়েছে।

নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) ও সোয়ানসির মুরাদ আলী (৫৭) এর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ককে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ (৭৩) এর বিরুদ্ধে দু’টি ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরী (৫৮) এর বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের অভিযোগ আছে। স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্স (৫৪) এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স বলেছেন, তদন্তকারীরা জনস্বার্থে এবং মামলাটি আদালতে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংগৃহীত করেছেন। তিনি আবারও গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন যে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া এখনো চলছে এবং তাদের ন্যায্য বিচারের অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হবে।

এই আট আসামিকে আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি